Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

ভারতে রফতানি বাধা ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৪ পিএম

  • এলডিসি উত্তরণেও শুল্কসুবিধা বহালের উদ্যোগ
  • বিআইএস সনদ ও মান নির্ধারণে জটিলতা কমানোর তাগিদ
  • ভারত হয়ে নেপাল-ভুটানে পণ্য পরিবহনের সুযোগ বাড়ানো
  • স্থলবন্দরে গুদাম, পার্কিং ও পরীক্ষাসুবিধা বাড়ানোর দাবি
  • তুলার সুতা রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চায় ভারত
  • রেল যোগাযোগ ও সীমান্ত হাট উন্নয়নে গুরুত্ব

ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের রফতানি বাধা দূর করা, পাটপণ্য ও পেট ফিল্মের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার এবং স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও শুল্কসুবিধা বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দুই দেশের স্থলবন্দরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, পণ্য পরিবহনে বিধিনিষেধ শিথিল এবং নেপাল ও ভুটানে পণ্য পরিবহনের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম সভায় এসব প্রস্তাব তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। ৮ অক্টোবর শুরু হওয়া দুই দিনের এ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা দূর করা, সীমান্তে পণ্য পরিবহন সহজ করা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের স্থলবন্দর ব্যবহার করে পণ্য রফতানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধ পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজ করতে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করা এবং বাণিজ্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থাগুলো পর্যালোচনার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

বাংলাদেশের পাটপণ্য ও পেট ফিল্মের ওপর ভারতের আরোপ করা অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের বিষয়টিও আলোচনায় তোলা হয়েছে। এসব বাধা দূর হলে ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশের রফতানি বাড়ানো এবং রফতানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ।

এলডিসি উত্তরণের পরও ভারতের বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রফতানিতে বিদ্যমান শুল্কসুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়টি বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য। এ ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (সাফটা) আওতায় পাওয়া সুবিধা বহাল রাখার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ।

পাশাপাশি পণ্যের মান নির্ধারণে দুই দেশের মধ্যে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা, মানসংক্রান্ত সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (বিআইএস) প্রয়োজনীয় সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য সম্প্রসারণে আঞ্চলিক পণ্য পরিবহনের সুযোগ বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে নেপাল ও ভুটানে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের সুযোগ সম্প্রসারণের বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। এ ছাড়া দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের ফোরাম (সিইওস ফোরাম) কার্যকর করার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

সীমান্ত দিয়ে পণ্য পরিবহনে বিদ্যমান জটিলতা কমাতে ভারতের স্থল কাস্টমস স্টেশনগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। প্রবেশপথ, পার্কিং ইয়ার্ড, গুদাম ও পণ্য রাখার শেডের পাশাপাশি পণ্য পরীক্ষা এবং কোয়ারেন্টাইন সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়লে সীমান্তে পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং বাণিজ্যের সময় ও ব্যয় কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের রফতানি খাতে নতুন সম্ভাবনা এশিয়ার বাজার

ভারতে ইলিশ রফতানি বন্ধে আইনি নোটিশ

অন্যদিকে, বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্প্রসারণে নিজেদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও বৈঠকে তুলে ধরেছে ভারত। দেশটির পক্ষ থেকে তুলার সুতা ও অন্যান্য পণ্য বাংলাদেশে রফতানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থলবন্দরে বিদ্যমান বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে বাংলাদেশে পণ্য রফতানির প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ও বহুমাত্রিক পরিবহনব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়গুলো আলোচনায় রয়েছে।

আখাউড়া-আগরতলা সংযোগসহ সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক রুটগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানো, দুই দেশের রেল যোগাযোগ উন্নয়ন এবং সীমান্ত হাটসংক্রান্ত বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থলবন্দর ও কাস্টমস কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়িয়ে সীমান্তে পণ্য পরিবহন ও খালাসের প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভৌগোলিক নৈকট্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার পাশাপাশি সীমান্ত অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং পণ্য পরিবহনে বিদ্যমান বিধিনিষেধ শিথিল করা জরুরি। যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নতুন সুযোগ তৈরির প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নিয়েছে।

এমআর/জেবি