মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ভারতে ইলিশ রফতানি বন্ধে আইনি নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম

শেয়ার করুন:

ভারতে ইলিশ রফতানি বন্ধে আইনি নোটিশ
‘পুনঃরফতানি’ চক্রের বাণিজ্যিক শোষণ বন্ধের দাবিতে ভারতে ইলিশ রফতানি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার কথা বলে সরকারকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

দেশের বাজারে ইলিশের অস্বাভাবিক দাম নিয়ন্ত্রণ এবং ভারতের মাধ্যমে অন্যান্য দেশে ‘পুনঃরফতানি’ চক্রের বাণিজ্যিক শোষণ বন্ধের দাবিতে ভারতে ইলিশ রফতানি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার কথা বলে সরকারকে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন জনস্বার্থে প্রতিরোধমূলক এই আইনি নোটিশটি পাঠান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান বরাবর এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, বিগত বছরগুলোতে স্থানীয় বাজারের চরম সংকট ও উচ্চমূল্যের তোয়াক্কা না করে ভারতে অত্যন্ত কম মূল্যে (মাত্র ১০ মার্কিন ডলারে) ইলিশ রফতানি করার এক আত্মঘাতী নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল। অথচ ভারতে নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিপুল ইলিশ উৎপাদন রয়েছে।

ভারতীয় আমদানিকারকরা মূলত একটি 
প্রতারণামূলক বাণিজ্য কৌশল অবলম্বন করছে দাবি করে নোটিশে বলা হয়, ‘তারা বাংলাদেশ থেকে নামমাত্র মূল্যে ইলিশ আমদানি করে তা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের দেশগুলোতে চড়া দামে (প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ মার্কিন ডলারে) পুনঃরফতানি করে বিপুল মুনাফা লুটে নিচ্ছে।’

আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন বলেন, মধ্যস্বত্বভোগী ভারতীয় আমদানিকারকদের এই প্রতারণার কারণে বাংলাদেশ সরকার হাজার হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং দেশের অমূল্য জাতীয় সম্পদ বিদেশের বাজারে চরমভাবে শোষিত হচ্ছে।

জাতীয় মাছ ইলিশ দেশের একটি মূল্যবান ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সম্পদ হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে স্থানীয় বাজারে এর আকাশচুম্বী দাম নিয়ে নোটিশে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

এতে বলা হয়, বর্তমানে খুচরা ও পাইকারি বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ২,৬০০ থেকে ৩,০০০ টাকায় (বর্তমান বিনিময় হারে প্রায় ২১ থেকে ২৫ মার্কিন ডলার)। অস্বাভাবিক এই দামের কারণে সাধারণ নাগরিক, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো তাদের নিজেদের জাতীয় মাছ কিনে খাওয়ার ন্যূনতম সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছেন।

সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা করা প্রত্যেক নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়, সরকার এখনো ভারতে ইলিশ রফতানির কোনো আনুষ্ঠানিক অনুমতি বা চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি। তবুও সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে যাতে কোনো ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, সেজন্য প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রাষ্ট্রের যদি সত্যিই বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয়, তবে ভারতীয় মধ্যস্বত্বভোগীদের এড়িয়ে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বাজারে প্রকৃত আন্তর্জাতিক মূল্যে উদ্বৃত্ত ইলিশ রফতানির একটি স্বচ্ছ রাষ্ট্রীয় নীতিমালা প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে নোটিশে।

আগামী ৭ দিনের মধ্যে ভারতে ইলিশ রফতানির যেকোনো প্রশাসনিক উদ্যোগ বা নীতিগত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে স্থানীয় বাজারে ইলিশের সর্বোচ্চ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থ হলে, নাগরিকদের খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট দায়ের করা হবে বলে নোটিশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

আরএনবি/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর