জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ব ডিম দিবস। পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসে ডিমের গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিবছর অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার দিবসটি পালন করা হয়। আন্তর্জাতিক ডিম কমিশনের (আইইসি) উদ্যোগে ১৯৯৬ সালে দিবসটির সূচনা হয়। সে হিসাবে ২০২৬ সালে বিশ্ব ডিম দিবসের ৩০ বছর পূর্ণ হচ্ছে।
ডিম পুষ্টিকর ও তুলনামূলক সহজলভ্য একটি খাবার। এতে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন বি১২, কোলিনসহ শরীরের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, পেশি গঠন এবং শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে ডিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই পুষ্টির চাহিদা পূরণে সবার জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে ডিমের সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি।
তবে বাংলাদেশে ডিমের উৎপাদন বাড়লেও দামে স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা। উৎপাদন বৃদ্ধি সত্ত্বেও ডিমের চড়া দাম নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য পুষ্টির চাহিদা পূরণে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ফলে পুষ্টিকর এই খাবার সবার নাগালে রাখার চ্যালেঞ্জ থেকেই যাচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, গত কয়েক বছরে দেশে ডিমের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে পোলট্রি খাদ্য, পরিবহন ও অন্যান্য উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ডিমের দামও চড়া থাকছে। এতে অনেক পরিবারের প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডিম রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
ডিম উৎপাদনকারীরা বলছেন, পোলট্রি খাদ্যসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ায় ডিম উৎপাদনের খরচ বেড়েছে। এতে বড় খামারিরা তুলনামূলকভাবে কিছুটা সুবিধা পেলেও ছোট খামারিরা পড়ছেন চাপে। উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের সামঞ্জস্য না থাকায় অনেকে খামার পরিচালনা করতে হিমশিম খাচ্ছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে এ পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, ডিমের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন খরচ কমানো, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে খামারিরা ন্যায্য দাম পাবেন এবং ভোক্তারাও সাশ্রয়ী মূল্যে ডিম কিনতে পারবেন।
বিশ্ব ডিম দিবসের মূল লক্ষ্য পুষ্টিকর এই খাবারের গুরুত্ব তুলে ধরা। তবে দিবসটির তাৎপর্য তখনই বাস্তবায়িত হবে, যখন ডিম দেশের সব শ্রেণির মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে।
এমআইকে/এএম