Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

ডিএসসিসির সড়ক-নর্দমা উন্নয়নে ৭৮৪ কোটি টাকার প্রকল্প উঠছে একনেকে

আব্দুল হাকিম

০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫৭ এএম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নতুন সংযুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডের ভাঙাচোরা সড়ক ও অপর্যাপ্ত নর্দমা নিয়ে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমাতে ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ১০৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার সড়ক ও ১০৩ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার নর্দমা উন্নয়নের পাশাপাশি ৪ হাজার ৪৯৯টি সড়কবাতি স্থাপন করা হবে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবে। মোট ৭৮৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকার মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ৫৪৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে দেওয়া হবে ২৩৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন বছরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় ১০৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন করা হবে। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা, যা প্রকল্পের মোট ব্যয়ের প্রায় ৬২ শতাংশ। একই সঙ্গে ১০৩ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার নর্দমা উন্নয়নে ব্যয় হবে ২২৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। এ খাতে প্রকল্পের মোট ব্যয়ের প্রায় ২৯ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া ৪ হাজার ৪৯৯টি সড়কবাতি স্থাপনসহ আনুষঙ্গিক কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, দেড় দশক আগে ঢাকা মহানগরের সীমানা সম্প্রসারণের সময় শ্যামপুর, মাতুয়াইল, ডেমরা, দনিয়া, সারুলিয়া, দক্ষিণগাঁও, নাসিরাবাদ ও মান্ডা ইউনিয়ন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হয়। পরে এসব ইউনিয়নকে ১৮টি ওয়ার্ডে ভাগ করে সিটি করপোরেশনের আওতায় নেওয়া হয়। এরপর থেকে এসব এলাকায় জনসংখ্যা ও বসতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়ক, নর্দমাসহ নাগরিক অবকাঠামোর ওপরও চাপ বেড়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নতুন সংযুক্ত হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত এসব এলাকায় ২৪১ দশমিক ৭২ কিলোমিটার রাস্তা এবং ২৩২ দশমিক ৮২ কিলোমিটার নর্দমা উন্নয়ন করা হয়েছে। এছাড়া ১১ দশমিক ৭৮ কিলোমিটার ফুটপাত উন্নয়ন এবং ২৬৫ দশমিক ১১ কিলোমিটার সড়কে বাতি স্থাপন করা হয়েছে। তবে এসব উন্নয়নের পরও বর্তমানে ৩৬০ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার কাঁচা ও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা রয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়ক অবকাঠামোর ঘাটতি থাকায় নতুন সংযুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে সড়কের দূরবস্থার কারণে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। অপর্যাপ্ত ও অপরিকল্পিত নর্দমার কারণে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতাও তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে সড়কবাতির ঘাটতির কারণে রাতের বেলায় পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এ অবস্থায় নতুন সংযুক্ত ওয়ার্ডগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করা, জলাবদ্ধতা নিরসন, যান চলাচল সহজ করা এবং যানজট কমানোর লক্ষ্য নিয়েই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং পথচারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ চলাচলের পরিবেশ তৈরির কথাও বলা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ বর্ধিত এলাকাগুলোর মধ্যে নতুন সংযুক্ত ১৮টি ওয়ার্ড অন্যতম। এসব এলাকায় আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা বাড়ার পাশাপাশি মানুষের চলাচলও বেড়েছে। ফলে বিদ্যমান সড়ক ও নর্দমা অবকাঠামো দিয়ে বাড়তি চাপ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অবকাঠামোগত ঘাটতি দূর করতে পরিকল্পিতভাবে সড়ক, নর্দমা ও সড়কবাতি উন্নয়নের প্রয়োজন রয়েছে।

প্রকল্পটির আওতায় সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হবে সড়ক উন্নয়নে। ১০৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়নে ৪৮৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ব্যয় হবে। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নে গড়ে প্রায় ৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। নর্দমা উন্নয়নে প্রতি কিলোমিটারে গড়ে প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। তবে প্রকল্পের বিভিন্ন উপাদানের ধরন ও কাজের পরিধি অনুযায়ী এসব ব্যয়ের পরিমাণে পার্থক্য থাকতে পারে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে প্রকল্পটির উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। পরে একই বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রকল্পটি নিয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা হয়। সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয় যাচাই-বাছাই করা হয় এবং কিছু শর্ত প্রতিপালন সাপেক্ষে প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপনের জন্য সুপারিশ করা হয়।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এটি নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখ করা অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়ন এবং নগরায়ণ ও আবাসনসংক্রান্ত প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। রাজধানী ঢাকা দেশের প্রধান ব্যবসা-বাণিজ্যিক কেন্দ্র হওয়ায় নগরের সম্প্রসারিত এলাকাগুলোতে নাগরিক অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি। বিশেষ করে নতুন সংযুক্ত এলাকাগুলোতে সড়ক ও নর্দমা অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে নগরের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও কার্যকর হবে।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্প্রসারিত এলাকার ১৮টি ওয়ার্ডে সড়ক ও নর্দমা অবকাঠামোর উন্নয়ন হবে। পাশাপাশি সড়কবাতি স্থাপনের মাধ্যমে রাতের চলাচল নিরাপদ হবে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে এসব এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের নাগরিক ভোগান্তি কমার পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক পরিবেশ তৈরি হবে।

এএইচ/এমআর