নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
দীর্ঘ এক যুগ পর ফিরছে তৈরি পোশাকশিল্পের বড় আয়োজন ‘BATEXPO’। আগামী ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ আয়োজনে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ক্রেতা, খুচরা বিক্রেতা, পণ্য সংগ্রহকারী ও ফ্যাশন খাতের নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানায় বিজিএমইএ।
‘A Legacy of Excellence. A Future of Innovation.’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত BATEXPO 2026-এ Primark, Pepco, M&S, Walmart Global Sourcing, Kmart, Cotton On, PDS ও LC Waikiki-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। বিশ্বখ্যাত পণ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান PDS Limited-ও এ আয়োজনে সম্পৃক্ত রয়েছে।
বিজিএমইএ বলছে, আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের এ অংশগ্রহণ বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা এবং পণ্য সংগ্রহের গন্তব্য হিসেবে দেশের প্রতি বৈশ্বিক আস্থার প্রতিফলন। একই সঙ্গে নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ, দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়-চুক্তি, পণ্যের বহুমুখীকরণ ও নতুন বাজার সম্প্রসারণে BATEXPO গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
উৎপাদন থেকে টেকসই শিল্পে রূপান্তর
বিজিএমইএর মতে, গত এক দশকের বেশি সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, শ্রমিক কল্যাণ, সামাজিক মানদণ্ড, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, সম্পদের দক্ষ ব্যবহার ও টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থায় শিল্পটি সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
এর পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থা, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদনের দিকেও এগিয়েছে দেশের পোশাক কারখানাগুলো। এসব পরিবর্তন আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে বলে মনে করছে সংগঠনটি।
বিজিএমইএ বলছে, বাংলাদেশ এখন শুধু পোশাক উৎপাদনের একটি গন্তব্য নয়, বরং আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে দায়িত্বশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই পণ্য সংগ্রহের অংশীদার হিসেবে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে।
পোশাকশিল্প ঘিরে বড় শিল্প-ইকোসিস্টেম
দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের প্রভাব শুধু কারখানায় সীমাবদ্ধ নেই। সুতা, কাপড়, আনুষঙ্গিক পণ্য, রং ও ধোলাই, পরিবহন, সরবরাহ ব্যবস্থা, ব্যাংকিং, প্রযুক্তি এবং অন্যান্য সহযোগী শিল্পকে ঘিরে বড় একটি শিল্প-ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছে।
এ খাতের মাধ্যমে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের কর্মসংস্থান, আয় ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিজিএমইএর ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পরিচয়ের সঙ্গে এখন মান, সামাজিক দায়বদ্ধতা, টেকসই উৎপাদন, উদ্ভাবন ও নির্ভরযোগ্যতার বিষয়গুলোও যুক্ত হচ্ছে।
এক মঞ্চে ক্রেতা-ব্র্যান্ড ও উৎপাদকরা
BATEXPO 2026-এ বৈশ্বিক ক্রেতা, ব্র্যান্ড, পোশাক উৎপাদক, নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী, প্রযুক্তি সরবরাহকারী ও শিল্প উদ্যোক্তারা একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এর মাধ্যমে বাংলাদেশি পোশাকশিল্পের জন্য নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব তৈরির পাশাপাশি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং নতুন বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়বে।
বিজিএমইএ মহাসচিব মেজর জেনারেল ড. মো. সাইফুল ইসলাম (অব.) বলেন, BATEXPO 2026 বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের পরিবর্তিত সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে।
আয়োজকদের মতে, বাংলাদেশের পোশাকশিল্প এখন শুধু বর্তমানের ক্রয়াদেশের জন্য নয়, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক পোশাক পণ্য সংগ্রহের চাহিদা পূরণের জন্যও নিজেদের প্রস্তুত করছে।
এমআর/এআরএম