Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

শেয়ারবাজারে প্রতারণা ঠেকাতে এআই নজরদারি যুক্ত হবে: বিএসইসি চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩২ পিএম

শেয়ারবাজারে প্রতারণা ও অনিয়ম ঠেকাতে নজরদারি ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই সঙ্গে ব্রোকারদের ব্যাক-অফিস সফটওয়্যারকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় এনে তাদের ব্যাংক হিসাবে থাকা অর্থ রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) অডিটরিয়ামে বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। এবারের বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহের প্রতিপাদ্য ‘বিনিয়োগকারীর স্থিতিস্থাপকতা, ডিজিটাল প্রতারণা ও প্রতারণা সতর্কতা’।

মাসুদ খান বলেন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও বিএসইসির নজরদারি ব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ব্রোকারদের ব্যাক-অফিস সফটওয়্যারকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এর ফলে কোনো ব্রোকারের ব্যাংক হিসাবে কত টাকা রয়েছে, তা রিয়েল টাইমে জানা যাবে। প্রয়োজন হলে এসব তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, অর্ডার ব্যবস্থাপনাকেও ডিজিটাল করা হবে। প্রতিটি অর্ডার ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার অ্যাপ থাকবে এবং এর মাধ্যমে লেনদেন করা যাবে। কাগজে শারীরিক স্বাক্ষরের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেনদেনের নিশ্চয়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এতে প্রতারণার সুযোগ কমবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই এখন অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। অতীতে যেসব অনিয়ম হয়েছে, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে শেয়ারবাজারকে দ্রুত ডিজিটাল ও আধুনিক ব্যবস্থায় নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে আইপিও অনুমোদনের প্রক্রিয়াও দ্রুত করার পরিকল্পনার কথা জানান মাসুদ খান।

তিনি বলেন, অতীতে একটি আইপিও অনুমোদনে এক বছর থেকে দেড় বছর পর্যন্ত সময় লেগেছে। এটি গ্রহণযোগ্য নয়। এখন আইপিও অনুমোদনের পুরো প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ তিন মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ডিএসই ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ভূমিকা আরও বাড়ানো হবে।

তিনি আরও বলেন, সরাসরি তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রেও নিয়মে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠিত ও শক্তিশালী কোম্পানিগুলোকে এ ব্যবস্থায় সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বহুজাতিক ও বড় স্থানীয় কোম্পানিগুলোকে সরাসরি তালিকাভুক্তির আওতায় আনার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দ্রুত কোম্পানির মূল্যায়নের জন্য নতুন পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মাসুদ খান বলেন, হাইব্রিড তালিকাভুক্তির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোনো কোম্পানি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নতুন মূলধন সংগ্রহের পাশাপাশি বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা তাদের কিছু শেয়ার বিক্রির সুযোগ পাবেন।

বন্ড বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন বিএসইসি চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, কমিশনের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বন্ড ইস্যুকারীদের মূল বোর্ডে তালিকাভুক্ত করার শর্ত দেওয়া হচ্ছে, যাতে বন্ড বিনিয়োগকারীরা প্রয়োজনে শেয়ারবাজারের মাধ্যমে তাদের বিনিয়োগ থেকে বের হতে পারেন।

নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য ১৮০ কোটি টাকার অরেঞ্জ বন্ড অনুমোদনের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রিন বন্ডসহ বিভিন্ন ধরনের বন্ড আনার উদ্যোগ রয়েছে। বিমা কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে করপোরেট বন্ডে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো হলে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি হবে এবং বন্ড বাজার আরও গভীর হবে।

প্রভিডেন্ট ফান্ডের বিনিয়োগ নিয়েও পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

মাসুদ খান বলেন, প্রভিডেন্ট ফান্ডের বড় একটি অংশ বর্তমানে সরকারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ করা হয়। ভবিষ্যতে এর একটি অংশ করপোরেট বন্ড ও শেয়ারে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ডেরিভেটিভস চালুর প্রস্তুতিও চলছে।

তিনি বলেন, ডেরিভেটিভস চালুর জন্য ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট ব্যবস্থায় পরিবর্তন প্রয়োজন। অন্যান্য দেশের মতো স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে আলাদা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্লিয়ারিং ও সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শহিয়ার গনি। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নীভিন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার প্রমুখ।

এএইচ/এএম