Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া, উৎপাদনে টানা পতন

মহিউদ্দিন রাব্বানি

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম

  • জোগান কমতেই বাজারে বেড়েছে ইলিশের ঝাঁজ
  • নদী-সাগরের বদলে ইলিশের পথে বাধার স্তর
  • ডিমওয়ালা ইলিশ কমছে, শঙ্কায় প্রজনন
  • দেশে সংকট, ভারত থেকে এলো সাড়ে ৩ লাখ কেজি

একসময় বর্ষা মানেই বাজারে ইলিশের ছড়াছড়ি। নদীর ঘাটে জেলেদের ব্যস্ততা, আড়তে মাছের স্তূপ আর বাজারে তুলনামূলক কম দামে ইলিশ কেনার সুযোগ ছিল ক্রেতাদের। এবার সেই চিত্র অনেকটাই উল্টো। মৌসুমের শেষ দিকে এসেও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে ইলিশের সরবরাহ প্রত্যাশিত নয়। কেজিপ্রতি দাম দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ায় ইলিশ এখন অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে।

শুধু বাজারে সরবরাহ কম নয়, দেশের ইলিশ আহরণেও দেখা দিয়েছে ধারাবাহিক পতন। মৎস্য অধিদফতরের প্রাথমিক হিসাবে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ইলিশ আহরণ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের চূড়ান্ত হিসাব এখনো হয়নি, তবে উৎপাদন পাঁচ লাখ টনের নিচে নেমেছে বলে জানিয়েছে অধিদফতর। এর মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয় বছর ইলিশ উৎপাদন কমার প্রবণতা স্পষ্ট হচ্ছে।

অন্যদিকে মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষায় আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ বন্ধ থাকবে। এ সময়ে ইলিশ পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও নিষিদ্ধ থাকবে।

রেকর্ড থেকে পতনের পথে

মৎস্য অধিদফতরের পরিসংখ্যান বলছে, ২০০১-০২ অর্থবছরে দেশে ইলিশ উৎপাদন ছিল প্রায় দুই লাখ টন। ২০০৭-০৮ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় দুই লাখ ৯৫ হাজার টনে। এরপর প্রায় প্রতিবছরই উৎপাদন বেড়েছে।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন হয় চার লাখ ৯৬ হাজার টন। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো তা পাঁচ লাখ টন ছাড়িয়ে পাঁচ লাখ ১৭ হাজার টনে পৌঁছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পাঁচ লাখ ৩২ হাজার, ২০১৯-২০ সালে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার, ২০২০-২১ সালে পাঁচ লাখ ৬৫ হাজার এবং ২০২১-২২ সালে পাঁচ লাখ ৬৬ হাজার টন ইলিশ আহরণ হয়।

২০২২-২৩ অর্থবছরে উৎপাদন সর্বোচ্চ প্রায় পাঁচ লাখ ৭১ হাজার টনে পৌঁছায়। এরপরই শুরু হয় নিম্নমুখী প্রবণতা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন কমে প্রায় পাঁচ লাখ ২৯ হাজার টনে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা আরও কমে প্রায় পাঁচ লাখ টনে নামে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাব চূড়ান্ত না হলেও এবারও উৎপাদন পাঁচ লাখ টনের নিচে নামার তথ্য মিলছে।

অর্থাৎ, রেকর্ড উৎপাদনের পর মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে ইলিশ আহরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। চলতি অর্থবছরের শুরুতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম আহরণের প্রাথমিক হিসাব পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

বাজারে চড়া ইলিশের দাম, দিশেহারা ক্রেতা

উৎপাদন কমার সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাজারে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হয়েছে। বড় ও ভালো মানের মাছের দাম আরও বেশি।

যাত্রাবাড়ী আড়তের মাছ কিনতে আসা আমিন আহমেদ বলেন, এক কেজি ইলিশ কিনতে গিয়ে ২ হাজার ৪০০ টাকা দাম শুনে শেষ পর্যন্ত ছোট আকারের মাছ কিনেছেন। তার বক্তব্য ছিল, আগেও এক কেজি ইলিশ ১ হাজার ৮০০ টাকার মধ্যে কিনেছেন। এবার দাম এত বেড়েছে কেন, সেটিই তার প্রশ্ন।

আরও পড়ুন

প্রথমবার ভারত থেকে ইলিশ আমদানি!

বাজারে এমন ক্রেতার সংখ্যাই বাড়ছে। অনেকে এক কেজির মাছ না কিনে ২৫০ থেকে ৫০০ গ্রামের ইলিশ নিচ্ছেন। কেউ আবার দাম শুনে দোকান থেকেই ফিরে যাচ্ছেন।

একজন ক্রেতা বলেন, ইলিশ খাওয়ার ইচ্ছা থাকে, কিন্তু বাজারে এসে দাম শুনলে আর কেনার সাহস হয় না। পরিবারের অন্য বাজার করতেই টাকা চলে যায়।

বাজারে ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া। ছবি: ঢাকা মেইল
বাজারে ইলিশের দাম আকাশছোঁয়া। ছবি: ঢাকা মেইল

বিক্রেতাদের ভাষ্য, দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতা কমেছে। ফলে মাছ থাকলেও বিক্রি আগের মতো হচ্ছে না। আবার সরবরাহ কম থাকায় কম দামে মাছ ছাড়ার সুযোগও নেই।

উৎপাদন কমার পেছনে কারা দায়ী?

গবেষকদের মতে, ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার পেছনে কোনো একটি কারণ নেই। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, ডুবোচর তৈরি, পানিপ্রবাহের পরিবর্তন, দূষণ, অতিরিক্ত আহরণ, অতি সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল, জাটকা ধরা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব একসঙ্গে কাজ করছে।

ইলিশ গবেষক ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক আনিসুর রহমান ঢাকা মেইলকে জানান, ৩৩ বছর ধরে ইলিশ নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক উৎপাদন কমে যাওয়ার পরিস্থিতি তিনি উদ্বিগ্ন। তার মতে, প্রাকৃতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি অতিরিক্ত মাছ আহরণ ও ছোট ইলিশ ধরে ফেলা উৎপাদন কমার গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, দুই বছর ধরে যে পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে তা উদ্বেগের। তার মতে, অতি সূক্ষ্ম জাল, অতিরিক্ত আহরণ, ডুবোচর এবং দূষণের ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এসব কারণের সুনির্দিষ্ট প্রভাব নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

চাঁদপুরের মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তায়েফা আহমেদের পর্যবেক্ষণও উদ্বেগজনক। তার গবেষণায় দেখা গেছে, এবার ধরা পড়া ইলিশের মাত্র ২০ থেকে ৩০ শতাংশের পেটে ডিম পাওয়া যাচ্ছে। কয়েক বছর আগে এ হার প্রায় ৫০ শতাংশের কাছাকাছি ছিল।

এই কর্মকর্তা বলেন, মোহনার মুখে বিশাল এলাকায় অতি সূক্ষ্ম ফাঁসের বেহুন্দি জাল পাতা থাকায় ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

ইলিশের জীবনচক্র সমুদ্র ও নদীর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। সমুদ্র থেকে নদীর দিকে আসার পথে নদীর মোহনা ও প্রবেশপথে নানা ধরনের পরিবর্তন ইলিশের চলাচলকে প্রভাবিত করছে।

আরও পড়ুন

৮ অক্টোবর থেকে ২২ দিন ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধ

নদীতে পলি জমা, ডুবোচর সৃষ্টি ও নাব্যতা কমে যাওয়ায় ইলিশের স্বাভাবিক চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে গবেষকেরা মনে করছেন। চাঁদপুরে ইলিশ কমার কারণ নিয়ে সাম্প্রতিক এক সভায় গবেষক আনিসুর রহমান অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এতে নদীর নাব্যতার পাশাপাশি ইলিশের খাদ্য ও চলাচলের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও বাদ দিচ্ছেন না গবেষকেরা। বৃষ্টির সময় ও পরিমাণে পরিবর্তন, পানির তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং নদী-সাগরের পরিবেশগত পরিবর্তন ইলিশের প্রজনন ও চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে।

ইলিশের অভয়াশ্রম ও বিচরণক্ষেত্রের পানিদূষণ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। শিল্পবর্জ্য, প্লাস্টিক এবং বিভিন্ন স্থাপনা থেকে আসা দূষণ নদীর পানির গুণগত মান বদলে দিতে পারে।

সাম্প্রতিক গবেষণা ও প্রতিবেদনে পটুয়াখালী ও বরগুনার ইলিশের অভয়াশ্রমের কাছাকাছি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দূষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিল্পবর্জ্য, প্লাস্টিক, নদীতে পলি জমা ও অতিরিক্ত মাছ ধরার পাশাপাশি এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রভাবের কথা আলোচনায় এসেছে।

তবে ইলিশ কমার জন্য কোন কারণের প্রভাব কতটা, তা নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন। কারণ ইলিশের বিচরণ ও প্রজনন একাধিক পরিবেশগত বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল।

খবর নিয়ে জানা যায়, নোয়াখালীর হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট ও তমরুদ্দি ঘাট একসময় ইলিশের ব্যস্ত মোকাম হিসেবে পরিচিত ছিল। ভোরে নদী থেকে একের পর এক নৌকা ঘাটে ফিরত। মাছ নামানো, বাছাই, নিলাম ও বেচাকেনায় সরগরম থাকত পুরো এলাকা।

এবার সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। আড়তে মাছের ঝুড়ি কম, সরবরাহ কম। ফলে দামও চড়া।

জেলেদের অভিযোগ, নদীতে মাছ কমে যাওয়ায় তাদের আয় কমেছে। একদিকে জ্বালানি, বরফ ও নৌকা পরিচালনার খরচ বাড়ছে, অন্যদিকে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় অনেক জেলেকেই লোকসান গুনতে হচ্ছে।

ইলিশ কম, ভারত থেকে আমদানি

দেশে উৎপাদন কমে যাওয়ার মধ্যেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ঘটনাও নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ২২টি প্রতিষ্ঠান মোট ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি করেছে।

মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সীমিত পরিসরে আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তবে নতুন করে ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে না বলে তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে ইলিশ উৎপাদন কমে গিয়ে বিদেশ থেকে মাছ আনতে হচ্ছে, বিষয়টিকে উদ্বেগজনক বলেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। উৎপাদন কমার কারণ খুঁজে বের করে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন তিনি।

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, কতটা মিলবে ফল?

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ সময় শুধু মাছ ধরা নয়, ইলিশ পরিবহন, মজুত, বাজারজাত, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময়ও বন্ধ থাকবে।

উৎপাদন কমে যাওয়ায় ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে ইলিশ। ছবি: ঢাকা মেইল
উৎপাদন কমে যাওয়ায় ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে ইলিশ। ছবি: ঢাকা মেইল

ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন-সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্সের সভায় সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ সম্প্রতি বলেছেন, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি ও অভিযান জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

ভরা মৌসুমেও পদ্মা-মেঘনায় কমেছে ইলিশের বিচরণ

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞাই উৎপাদন বাড়ানোর সমাধান নয়। নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি সারা বছর জাটকা রক্ষা, অবৈধ জাল বন্ধ, নদীর নাব্যতা ও পানির গুণগত মান ঠিক রাখা এবং জেলেদের বিকল্প জীবিকার বিষয়েও নজর দিতে হবে।

দাম কমবে কবে?

ইলিশের দাম কমার জন্য বাজারে মাছের সরবরাহ বাড়তে হবে। কিন্তু উৎপাদনই যদি কমতে থাকে, তাহলে শুধু বাজার তদারকি করে দীর্ঘমেয়াদে দাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্রেতার ক্ষোভও বাড়ছে। ক্রেতারা বলছেন, ‘ইলিশ এখন উৎসবের মাছ হয়ে গেছে। সাধারণ দিনে পরিবার নিয়ে কিনে খাওয়ার মতো দাম নেই। আগে মাসে অন্তত একবার ইলিশ কিনতাম। এখন দাম শুনে ছোট মাছ বা অন্য মাছ কিনে চলে আসতে হয়।’

ইলিশের উৎপাদন দুই দশক ধরে যে গতিতে বেড়েছিল, সেই ধারাবাহিকতা এখন থেমে গেছে। রেকর্ড পাঁচ লাখ ৭১ হাজার টন উৎপাদনের পর পরপর কয়েক বছর কমেছে আহরণ। চলতি অর্থবছরের শুরুতে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম আহরণের প্রাথমিক হিসাব সেই সংকেত আরও স্পষ্ট করেছে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন ঢাকা মেইলকে বলেন, ভরা মৌসুমেও ইলিশের এমন চড়া দাম আগে দেখা যায়নি। এই দামে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, আমরাও ইলিশ কিনে খেতে পারছি না। এর মধ্যে ইলিশ রফতানি করা হলে বাজারে সরবরাহ আরও কমে গিয়ে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। অথচ সাধারণ মানুষের জন্য ইলিশের প্রাপ্যতা ও ন্যায্য দাম নিশ্চিত করাই সরকারের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত ছিল।

এদিকে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) এর সাবেক মহাপরিচালক ড. জাহাঙ্গীর আলম ঢাকা মেইলকে বলেন, বাংলাদেশে ইলিশ আমদানি করা হচ্ছে, যা আমাদের জন্য লজ্জার। অথচ এই পরিস্থিতি তৈরি করছেন দুই দেশের ব্যবসায়ীরা। দেশের মানুষের ইলিশের চাহিদা ও সংকট সমাধানের চেয়ে তারা নিজেদের ব্যবসা ও মুনাফার বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে মনে হয়।

এই কৃষি অর্থনীতিবিদ বলেন, একসময় তারা দেশের ইলিশ বিদেশে রফতানি জন্য তোড়জোড় করেন, আবার অন্য সময় আহরণ কমে যাওয়ার কথা বলে আমদানির জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। এটি কোনোভাবেই শুভ লক্ষণ নয়। ইলিশের মতো জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ মাছের ক্ষেত্রে আমদানি ও রফতানি, উভয় ক্ষেত্রেই সুস্পষ্ট জাতীয় নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন।

এমআর/জেবি