Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

মূল্যস্ফীতি কমলেও কমেনি বাজারের চাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৮ পিএম

দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে আগস্টে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমেছে। এটি গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও জুলাইয়ের ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ থেকে কমে আগস্টে ৭ দশমিক ০২ শতাংশ হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতির এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও রাজধানীর বাজারে সাধারণ মানুষের ব্যয়ের চাপ কমেনি। 

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন বাজার ঘুরে এখনো চড়া দামে নিত্যপণ্য বিক্রি হতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। আগস্টে তা কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ হয়েছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও কিছুটা কমেছে। তবে মূল্যস্ফীতির হার কমার অর্থ পণ্যের দাম আগের দামে ফিরে যাওয়া নয়। বরং আগের তুলনায় দাম যে হারে বাড়ছে, সেই বৃদ্ধির হার কমেছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ দামে পণ্য কিনতে থাকা ভোক্তাদের ওপর ব্যয়ের চাপ থেকেই যাচ্ছে।

96d36de0-c0a6-47bd-bc53-8fb4387088dd

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ নিত্যপণ্য এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি সরু চাল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, মাঝারি চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং মোটা চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় দানার মসুর ডাল ৮২ টাকা, মাঝারি দানার ১৩৫ টাকা এবং ছোট দানার মসুর ডাল ১৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া অ্যাঙ্কর ডাল ৬০ টাকা এবং ছোলা ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মসলার বাজারেও স্বস্তি নেই। প্রতি কেজি জিরা ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা, ধনে ২৬০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আলু ২৫ থেকে ৪০ টাকা, রসুন ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা, আদা ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা এবং গোটা হলুদ ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ২০৪ টাকা, পাম তেল প্রতি কেজি ১৮৬ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, বেগুন ১০০ থেকে ১৬০ টাকা এবং শসা ৭০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

খাদ্যপণ্যের বাইরে মাছ-মাংসের বাজারেও চাপ রয়েছে। গরুর মাংস ৭৮০ টাকা, খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকা, ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ইলিশ ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা, জাটকা ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, পাঙাশ ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৮০ থেকে ৩২০ টাকা, ট্যাংরা ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা এবং চিংড়ি ৭০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এ ছাড়া এক কেজি ডানো দুধও ৯৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।

651be573-5954-4364-b09b-06cd853a2bf3

বাজার ঘুরে আরও দেখা গেছে, একই পণ্য একেক বাজারে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। পণ্য ও বাজারভেদে দামের পার্থক্য ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত হচ্ছে। ফলে সরকারি হিসাবে কিছু পণ্যের দাম কমলেও বাজারে এসে তার পুরো সুফল পাচ্ছেন না সাধারণ ক্রেতারা।

বৃহস্পতিবার বাজারদরের সঙ্গে তার আগের বছরের একই সময়ের বাজারদরের তুলনা করে টিসিবি জানিয়েছে, প্রতি কেজি সরু চাল ৩.১৩ শতাংশ, মাঝারি চাল ৭.৬৯ শতাংশ এবং মোটা চাল ৮.৭০ শতাংশ হারে কমেছে। মসুরের ডাল বড় দানারটা প্রতি কেজি ৭.৩২ শতাংশ এবং মাঝারি দানারটা ৬ শতাংশ হারে কমেছে। ছোট দানার মসুরের ডালের দাম একই আছে। প্রতি কেজি অ্যাঙ্কর ডাল ৩.৫৭ শতাংশ এবং ছোলা মানভেদে ২.৩৩ শতাংশ হারে কমেছে।

একইভাবে দেশি পেঁয়াজ ৩০ শতাংশ, রসুন ৮.৩৩ শতাংশ এবং হলুদ ৪.২৯ শতাংশ হারে কমেছে। অন্যদিকে টিসিবির হিসাবে সয়াবিন তেল, পাম অয়েল, পেঁয়াজ (দেশি), রসুন (দেশি ও আমদানি), কাঁচা মরিচ, বেগুন, শসার দাম বাড়ার কথা বলেছে। তবে টিসিবি যে হারে বাড়ার কথা বলছে, দাম তার চেয়ে বেশি বেড়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতি কমার প্রবণতা অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভোক্তার ওপর প্রকৃত চাপ বুঝতে পণ্যের বর্তমান খুচরা দাম, আয় ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের পরিবর্তন একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতি কমার তথ্য পাওয়া গেলেও বাজারে গিয়ে তার প্রতিফলন সব সময় দেখা যায় না। মানুষের আয় যে হারে বাড়ছে, তার তুলনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেশি থাকায় জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে সাধারণ মানুষকে চাপের মধ্যে থাকতে হচ্ছে।

এএইচ/এমআই