শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

সরকারি হিসাবে দাম কমলেও বাজারে স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৩ এএম

শেয়ার করুন:

সরকারি হিসাবে দাম কমলেও বাজারে স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা

সরকারি হিসাবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম কমেছে। তবে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে এসব পণ্য কিনতে গিয়ে তেমন স্বস্তি পাচ্ছেন না সাধারণ ভোক্তারা। টিসিবির হিসাবে সরু, মাঝারি ও মোটা চাল, মসুরের ডাল, অ্যাঙ্কর ডাল, ছোলা, দেশি পেঁয়াজ, রসুন ও হলুদের দাম কমেছে। কিন্তু রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এসব পণ্যের অনেকগুলোর দাম এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসেনি।

টিসিবি বৃহস্পতিবারের বাজারদরের সঙ্গে গত বছরের একই সময়ের তুলনা করে জানিয়েছে, প্রতি কেজি সরু চালের দাম ৩ দশমিক ১৩ শতাংশ, মাঝারি চাল ৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং মোটা চাল ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ কমেছে। বড় দানার মসুর ডালের দাম কমেছে ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং মাঝারি দানার মসুর ৬ শতাংশ। অ্যাঙ্কর ডাল ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং ছোলা মানভেদে ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ কমেছে। একইভাবে দেশি পেঁয়াজের দাম ৩০ শতাংশ, রসুন ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং হলুদ ৪ দশমিক ২৯ শতাংশ কমেছে।

তবে শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সরু চাল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা, মাঝারি চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং মোটা চাল ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বড় দানার মসুর ডাল ৮২ টাকা, মাঝারি দানার ১৩৫ টাকা এবং ছোট দানার মসুর ডাল ১৫৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অ্যাঙ্কর ডাল ৬০ টাকা এবং ছোলা ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ক্রেতারা বলছেন, সরকারি হিসাবে দাম কমার তথ্য থাকলেও বাজারে এসে তার প্রভাব খুব বেশি টের পাওয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে সরু চাল, মসুর ডাল ও ছোলার মতো নিত্যপণ্যের দাম এখনো পরিবারের মাসিক ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি করছে। পণ্যের দাম কিছুটা কমলেও তা আগের তুলনায় কতটা কমেছে, সেটি সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বড় বিষয় নয়। তারা বলছেন, আয় না বাড়লে সামান্য দাম কমায় বাজারে স্বস্তি ফেরে না। একই সঙ্গে বাজারভেদে দামের পার্থক্য থাকায় সরকারি দরের সঙ্গে বাস্তব বাজারদরের মিলও সব সময় পাওয়া যায় না। 

ক্রেতা রফিক বলেন, বাজারে এসে সবচেয়ে বেশি চাপ লাগে চাল আর ডাল কিনতে। পরিবারের জন্য যে পরিমাণ চাল লাগে, সেটা কিনতেই বেশ বড় অঙ্কের টাকা চলে যায়। কয়েক টাকা কম-বেশি হলেও মাস শেষে হিসাব করলে সেটি খুব একটা কাজে আসে না। আয় তো আর সেই অনুযায়ী বাড়েনি। তাই নিত্যপণ্যের দাম কমলে আমাদের জন্য সুবিধা হবে। বিশেষ করে চাল ও ডালের দাম মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা দরকার।

আরেক ক্রেতা আবুল কালাম বলেন, আজ বাজারে ছোলা, ডাল আর পেঁয়াজ কিনেছি। প্রতিটি জিনিসের দাম আলাদা করে দেখলে হয়তো খুব বেশি মনে হয় না, কিন্তু কয়েকটি পণ্য একসঙ্গে কিনলেই মোট খরচ অনেক হয়ে যায়। আগে যে টাকায় বাজারের বেশ কিছু জিনিস কেনা যেত, এখন একই টাকায় কম পণ্য পাওয়া যায়। এ কারণে প্রয়োজন না হলে অনেক কিছু কিনি না।

বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম কমলে খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। তবে পরিবহন খরচ, দোকান ভাড়া, শ্রমিকের মজুরি ও অন্যান্য ব্যয় থাকায় পাইকারি দামের সঙ্গে খুচরা দামের কিছুটা পার্থক্য থাকে। তাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় কয়েকটি পণ্যের দাম কমলেও সব পণ্যের দাম একই হারে কমেনি। 

মিরপুর ৬ এলাকার কাচাবাজার বিক্রেতা শাজাহান মিয়া বলেন, আমাদের দোকানে চাল ও ডালের বিভিন্ন মানের পণ্য থাকে। ক্রেতারা সাধারণত নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পণ্য বেছে নেন। কেউ কম দামের মোটা চাল নিচ্ছেন, আবার কেউ ভালো মানের সরু চাল নিচ্ছেন। তাই একই পণ্যের দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে ভিন্ন অভিজ্ঞতা হতে পারে। কয়েকটি পণ্যের পাইকারি দাম কিছুটা কমেছে, তবে সব পণ্যে একই পরিস্থিতি নেই। আমরা যে দামে পণ্য কিনি, তার ওপর সামান্য লাভ রেখে বিক্রি করি।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, পাইকারি পর্যায়ে দাম কমলেও পরিবহন ব্যয়, বিভিন্ন স্তরে অতিরিক্ত খরচ, বাজার তদারকির ঘাটতি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে খুচরা পর্যায়ে তার প্রভাব পড়ে না। ফলে সরকারি হিসাবে দাম কমার তথ্য থাকলেও ভোক্তার বাজারে তার সুফল পৌঁছাচ্ছে না।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, সরকারি হিসাবে যেসব পণ্যের দাম কমার কথা বলা হচ্ছে, বাজারে গিয়ে তার প্রতিফলন সব ক্ষেত্রে পাওয়া যাচ্ছে না। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতি কমার তথ্যও আসছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে এখনো চাপে রয়েছেন।

এএইচ/এএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর