নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২০ এএম
অর্থবছরের শুরুতেই প্রবাসী আয়ে জোরালো প্রবৃদ্ধি দেখা দিয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম ৭১ দিনে দেশে এসেছে ৬৭৩ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৫৭৮ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ৯৫ কোটি ডলার বা ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ জুলাই থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রবাসীরা দেশে ৬৭৩ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে শুধু চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম আট দিনেই এসেছে ৯০ কোটি ৪০ লাখ ডলার। গত বছরের একই সময়ে এসেছিল ৮৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। ফলে এ সময় রেমিট্যান্স বেড়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ।
একই সময়ে এক দিনেই বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স এসেছে। ৮ সেপ্টেম্বর প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।
চলতি অর্থবছরের শুরুতে শুধু রেমিট্যান্স নয়, রফতানি আয়েও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। অর্থবছরের প্রথম দুই মাস জুলাই ও আগস্টে দেশে মোট ৫৮৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৪৯০ কোটি ডলার। অর্থাৎ দুই মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৯৩ কোটি ডলার বা ১৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
অন্যদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ৭৫০ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের প্রায় ৭১১ কোটি ডলারের তুলনায় ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি।
ফলে অর্থবছরের শুরুতে প্রবাসী আয় ও রফতানি—বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের দুই প্রধান উৎসেই প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রবৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে চাপ কমানোর পাশাপাশি দেশের রিজার্ভ ধরে রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
আরও পড়ুন
রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধি, দুই মাসে বেড়েছে রফতানিও
ছয় মাসে রেকর্ড রেমিট্যান্সে রিজার্ভে স্বস্তি, বিনিয়োগে ফেরেনি গতি!
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রেমিট্যান্সে ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ পরিমাণ বেড়েছে ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও রেমিট্যান্স বেড়েছিল ৬৪২ কোটি ডলার বা ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অর্থ পাচার ঠেকাতে কড়াকড়ি এবং হুন্ডির প্রবণতা কমে আসার কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। এতে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ছে এবং ডলারের বাজারেও কিছুটা স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে।
রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধির সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছর শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়ে ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। নিট রিজার্ভ রয়েছে ৩২ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার।
আন্তঃব্যাংক বাজারে বর্তমানে প্রতি ডলারের দর ১২৩ টাকার আশপাশে রয়েছে। গত মাসের শুরুতে ডলারের দর ১২৩ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত উঠেছিল। রেমিট্যান্স ও রফতানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
জেবি