জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
দেশের খেলাপি ঋণ কমাতে বড় ঋণগ্রহীতাদের জন্য আরও বড় ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এক হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি ঋণ থাকা প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপকে বিশেষ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদ দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ দুই বছর গ্রেস পিরিয়ডও পাওয়া যাবে।
সোমবার (৩১ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার লেটার জারি করা হয়। এতে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠান নীতি সহায়তা পেতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে আবেদন করতে পারবে। এক হাজার কোটি টাকা বা তার বেশি ঋণস্থিতি থাকা কোনো প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ বিশেষ পুনঃতফসিলের আবেদন করলে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ১৫ বছর মেয়াদ নির্ধারণ করা যাবে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ দুই বছর গ্রেস পিরিয়ড রাখার সুযোগ থাকবে।
এ ছাড়া বিশেষ পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সময় বাড়ানোর সুযোগ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগের নির্ধারিত মেয়াদের সঙ্গে সর্বোচ্চ আরও চার বছর যোগ করা যাবে।
তবে এক হাজার কোটি টাকার কম ঋণস্থিতি থাকা প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের ক্ষেত্রে বিশেষ পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনে ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা নীতিমালায় নির্ধারিত মেয়াদই বহাল থাকবে।
এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা বা বাছাই কমিটির মাধ্যমে নীতি সহায়তা পাওয়া ঋণগ্রহীতারাও নতুন সুবিধার আওতায় আসবেন। তাদের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে পার হয়ে যাওয়া গ্রেস পিরিয়ড নতুন গ্রেস পিরিয়ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনে অতিরিক্ত মেয়াদ বাড়ানো যাবে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, নতুন আবেদনের ক্ষেত্রে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অশ্রেণিকৃত ঋণকে বিশেষ পুনর্গঠন এবং শ্রেণিকৃত ঋণকে বিশেষ পুনঃতফসিলের সুবিধা দেওয়া যাবে।
আরও পড়ুন: ঋণ শোধের চাপ বাড়ছে, কমছে প্রতিশ্রুতি
তবে এ সুবিধা পেতে ঋণগ্রহীতাকে নির্ধারিত ডাউনপেমেন্ট দিতে হবে। আবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তা নিষ্পত্তি করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এ বিষয়ে আগে জারি করা সার্কুলার ও অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে। নতুন নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
টিএই/এমআই