জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:২৮ এএম
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নবম পে স্কেলের গেজেট পেতে যাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা। আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। অনুমোদন মিললে পরবর্তী বৃহস্পতিবারের মধ্যেই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারির প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এটি এজেন্ডাভুক্ত করে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পাওয়া গেলে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই প্রজ্ঞাপন জারি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য প্রস্তুত করা চূড়ান্ত খসড়ায় বেতন-ভাতা কত শতাংশ বাড়ছে, সেই বিষয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানাতে রাজি হননি।
এর আগে গত ১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে স্কেলের কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনো সময় এটি ঘোষণা করা হতে পারে।
গত ২৯ জুলাই অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে কাজ চলছে। কাজ শেষ হলে দ্রুত তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের সচিব কমিটি গঠন করা হয়। ইতোমধ্যে কমিটি তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সচিব কমিটি প্রথম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। এই সুপারিশ দুই ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব রয়েছে। প্রথম বছরে মূল বেতন এবং দ্বিতীয় বছরে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামোয় ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। তবে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এসব বেতনকে প্রস্তাবিত বা সম্ভাব্য কাঠামো হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
টিএই/এফএ