Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

কার্বননির্ভরতায় আটকে আছে দেশের তৈরি পোশাক শিল্প: সিপিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প এখনো কাঠামোগতভাবে কার্বননির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থায় আটকে রয়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা, পুরোনো প্রযুক্তি, সবুজ অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা ও নীতিগত দুর্বলতার কারণে খাতটিতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর গতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেক ধীর বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।

রোববার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘পোশাক খাতে শিল্প কার্বন নিঃসরণ হ্রাস: কীভাবে একে এগিয়ে নেওয়া যায়?’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে সিপিডি তাদের ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে শিল্প কার্বনমুক্তকরণ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। গবেষণাটি দেশের ৩৫০টি পোশাক কারখানার তথ্য ও জ্বালানি ব্যবহার বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মোট গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক শিল্প থেকে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কম কার্বনযুক্ত উৎপাদনের চাহিদা, ইউরোপের নতুন পরিবেশগত বাণিজ্যনীতি এবং এলডিসি উত্তরণকে সামনে রেখে এই খাতের ওপর চাপ আরও বাড়ছে। তবে অধিকাংশ কারখানায় পরিবর্তন সীমাবদ্ধ রয়েছে এলইডি আলো ও ছোটখাটো জ্বালানি দক্ষতা উদ্যোগে। উৎপাদনের মূল প্রযুক্তি ও তাপভিত্তিক জ্বালানি ব্যবস্থা প্রায় অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পোশাক খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ‘কার্বন লক-ইন’। অর্থাৎ প্রযুক্তি, অবকাঠামো, বাজার ও নীতিমালা একে অপরকে শক্তিশালী করে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা স্থায়ী করেছে। ফলে শুধু নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন করলেই জ্বালানি ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হচ্ছে না।

সিপিডির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সেলাই বিভাগে মোট যন্ত্রের প্রায় ৮৫ শতাংশ থাকলেও সবচেয়ে বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে কাটিং বিভাগে। অন্যদিকে ওয়াশিং ও ডাইংকে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি-নিবিড় ধাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে ব্যবহৃত গ্যাসচালিত তাপীয় বয়লারের সহজ বিকল্প এখনো নেই।

সংলাপে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে একটি ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম’ গঠন করতে হবে। তার ভাষায়, এখন ধীরে চলার সময় নেই, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে জ্বালানি খাতের সংকট সমাধানে এগোতে হবে।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর গ্যাসভিত্তিক শিল্প অবকাঠামো গড়ে উঠলেও বর্তমানে গ্যাসের মজুত কমে আসছে।

এলএনজি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাসচালিত বয়লারের বিকল্প প্রযুক্তি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

সিপিডি সুপারিশ করেছে, শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতায়ন, দক্ষ যন্ত্রপাতিতে বিনিয়োগ, সবুজ অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং ফলাফলভিত্তিক পরিবেশগত নীতিমালা একযোগে বাস্তবায়ন করতে হবে।

তাদের মতে, কার্বন কমানো এখন শুধু পরিবেশের প্রশ্ন নয়, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের রফতানি সক্ষমতা টিকিয়ে রাখার অন্যতম শর্ত।

এএইচ/এফএ