মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ঢাকা

গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে দ্রুত বোর্ড গঠনের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ আগস্ট ২০২৬, ১০:০৪ পিএম

শেয়ার করুন:

গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে দ্রুত বোর্ড গঠনের দাবি

গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি পুনর্র্নিধারণে দ্রুত নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছে এশিয়া ফ্লোর ওয়েজ অ্যালায়েন্স (এএফডব্লিউএ) বাংলাদেশ কমিটি। 

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, লাগামহীন জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির কারণে বর্তমান ১২ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নতম মজুরি দিয়ে একজন পোশাকশ্রমিকের নিজের ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় শ্রমিকদের জীবনযাত্রার বাস্তব ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত মজুরি পুনর্র্নিধারণ করা প্রয়োজন।

এএফডব্লিউএ বাংলাদেশ কমিটির আহ্বায়ক কাজী রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সঞ্চালনা করেন সম্মিলিত শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুল হাসান নয়ন।

বক্তারা বলেন, দেশের রফতানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং কর্মসংস্থানে তৈরি পোশাকশিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। একইসঙ্গে দেশের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতেও এ শিল্পের অবদান রয়েছে।

তবে পোশাকশ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রমে এ খাতে বিপুল অর্থনৈতিক সম্পদ সৃষ্টি হলেও শ্রমিকরা তার ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

তাদের ভাষ্য, খাদ্য, বাসাভাড়া, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, যাতায়াত, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব খাতেই ব্যয় বেড়েছে। এর বিপরীতে শ্রমিকদের আয় সেভাবে বাড়েনি। ফলে পরিবারের খরচ চালাতে অনেক শ্রমিককে অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে। কেউ কেউ সংসারের প্রয়োজন মেটাতে ঋণের ওপরও নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।

সমাবেশে সরকারি কর্মচারীদের প্রস্তাবিত সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা বেতনের বিষয়টি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন পুনর্র্নিধারণের উদ্যোগ নেওয়া হলে পোশাকশ্রমিকদের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তারা চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই গার্মেন্টস খাতের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানান।

সমাবেশ শেষে শ্রমিকদের মজুরি পুনর্র্নিধারণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে মজুরি বোর্ডে স্বাধীন শ্রমিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, শ্রমিকদের প্রকৃত জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় মজুরি নির্ধারণ, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও চাকরির নিশ্চয়তা, স্বাস্থ্যসেবা, মাতৃত্বকালীন সুবিধা, সামাজিক সুরক্ষা এবং ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

এম/এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর