নিজস্ব প্রতিবেদক
০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
দেশীয় টেক্সটাইল শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ও বিনিয়োগ সুরক্ষায় পোশাকশিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। তাদের দাবি, এ শর্ত বাতিল বা শিথিল করা হলে স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা কমার পাশাপাশি কাঁচামাল আমদানিনির্ভরতা বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হবে।
সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া এক চিঠিতে এই দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। রোববার (৯ আগস্ট) এনবিআর সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের পাঠানো ওই চিঠিতে একই সঙ্গে রপ্তানি খাতের ব্যয় কমানো ও করনীতিতে বিভিন্ন ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিজিএমইএ ও বিকেএমইএসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোও এই দাবির সঙ্গে একমত।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ জ্বালানি ব্যয়, গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা এবং তারল্য সংকটের মধ্যে স্থানীয় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের শর্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ শর্ত থাকলে স্থানীয়ভাবে সুতা ও কাপড় উৎপাদন বাড়বে এবং পোশাকশিল্পের পশ্চাৎ-সংযোগ শিল্প আরও শক্তিশালী হবে।
সংগঠনগুলোর ভাষ্য, প্রাইমারি টেক্সটাইল খাত দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের অন্যতম প্রধান পশ্চাৎ-সংযোগ। স্থানীয় মিলগুলো পোশাকশিল্পের প্রয়োজনীয় সুতা ও কাপড় সরবরাহে ব্যর্থ হলে আমদানিনির্ভরতা আরও বাড়বে। এতে একদিকে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।
চিঠিতে বলা হয়, আমদানি করা কাঁচামাল ব্যবহার করে রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মূল্য সংযোজনের বাধ্যবাধকতা থাকলে আমদানিকারকরা প্রকৃতপক্ষে কতটা মূল্য সংযোজন করছেন, তা পর্যবেক্ষণ করা সহজ হয়।
একই সঙ্গে এ ব্যবস্থা আমদানি-রপ্তানির আড়ালে কারচুপি ও বৈদেশিক মুদ্রা পাচারের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক বলে মনে করছে সংগঠনগুলো।
বর্তমানে দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতে প্রায় ১ হাজার ৮৮৩টি সদস্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ খাতে প্রায় ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ রয়েছে বলে জানিয়েছে বিটিএমএ।
সংগঠনগুলোর দাবি, এই বড় বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে স্থানীয় মূল্য সংযোজন ও মানসম্মত উৎপাদন নিশ্চিত করা জরুরি।
কাঁচামাল আমদানিতে মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহালের পাশাপাশি রফতানি খাতের ব্যয় কমাতে আরও কয়েকটি প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনগুলো। এর মধ্যে নগদ সহায়তার বিপরীতে উৎসে কর ১০ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামানোর পাশাপাশি এটিকে চূড়ান্ত করদায় হিসেবে গণ্য করার দাবি রয়েছে।
গ্রুপভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণ একটি স্বীকৃত প্রক্রিয়া উল্লেখ করে সংগঠনগুলো এ ধরনের ঋণের ওপর ১২ শতাংশ ‘কাল্পনিক’ সুদের বিপরীতে কর আরোপ থেকে রপ্তানিমুখী শিল্পকে অব্যাহতির দাবি জানিয়েছে।
এছাড়া উৎসে কর কর্তন বা জমা দিতে ভুল হলে অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ জরিমানার বিধান থেকে ব্যবসায়ীদের অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনগুলোর মতে, ব্যবসায়িক ভুল বা অসাবধানতাকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে এ ধরনের উচ্চ জরিমানা আরোপ করা হলে শিল্পের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়।
চিঠিতে পোশাকশিল্পের মতো টেক্সটাইল খাতের আয়কর হার ১২ শতাংশ নির্ধারণ করে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত তা বহাল রাখার দাবি জানানো হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনার জন্য স্থিতিশীল করনীতি প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করা হয়।
তাছাড়া আয়কর আইনের ৭২ক ধারায় ১২ বছর পর্যন্ত নথিপত্র সংরক্ষণের বিধানকে ভ্যাট ও কাস্টমস আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিন বছরে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনগুলো।
এমআর/এএম