নিজস্ব প্রতিবেদক
০৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৯ এএম
গরিব ও মধ্যবিত্তদের প্রধান আমিষের উৎস মুরগি, ডিম ও দুধের দাম আবারও বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সোনালী মুরগির দামও বেশি। একই সঙ্গে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায়, আর প্রতি লিটার দুধের দাম পৌঁছেছে ১১০ টাকায়। ফলে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য দৈনন্দিন আমিষের চাহিদা মেটানো আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। সোনালী মুরগির কেজি ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা এবং প্রতি লিটার দুধ বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। বিভিন্ন দোকান ঘুরে বিশেষ করে মিল্কভিটার দাম ১১০ টাকা। অন্যদিকে দেশি মুরগি ও দেশি ডিমের দাম আগের মতোই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা সোহেল আহমেদ বলেন, প্রতি সপ্তাহেই বাজারে এসে নতুন দাম দেখতে হচ্ছে। আগে অন্তত ব্রয়লার মুরগি কিনে পরিবারের আমিষের চাহিদা মেটানো যেত। এখন সেটিও কঠিন হয়ে গেছে। ডিম ও দুধের দামও বেড়েছে। সংসারের খরচ আর সামলানো যাচ্ছে না।
নারিন্দার গৃহিণী রুমা আক্তার বলেন, মাছ-মাংস আগেই কমিয়েছি। এখন বাচ্চাদের জন্য ডিম আর দুধ কিনতেও হিসাব করে চলতে হচ্ছে। বাজারের এই অবস্থা চলতে থাকলে পুষ্টিকর খাবার কেনাই কঠিন হয়ে যাবে।
মুরগি বিক্রেতা আব্দুল কাদের বলেন, খামার থেকেই বেশি দামে মুরগি কিনতে হচ্ছে। খাদ্য, পরিবহনসহ সব ধরনের খরচ বেড়েছে। তাই খুচরা বাজারেও দাম বাড়াতে হচ্ছে।
যাত্রাবাড়ী আড়তের ডিম বিক্রেতা জসিম বলেন, খামার পর্যায়ে ডিমের দাম বেড়েছে। বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রির সুযোগ নেই। তাই ডজনপ্রতি ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
বাজারসংশ্লিষ্টদের দাবি, পোল্ট্রি খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, কার্যকর বাজার তদারকির অভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় আমিষপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ফলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর।
এমআর/এএস