নিজস্ব প্রতিবেদক
৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম
দেশের তরল জ্বালানি খাতের বিদ্যমান সংকট দ্রুত নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে পেট্রোল পাম্প ব্যবসা আরও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। সংগঠনটির দাবি, অতিরিক্ত লাইসেন্স প্রক্রিয়া, উচ্চ পরিচালন ব্যয়, সীমিত কমিশন এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ব্যবসা পরিচালনা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় এসব কথা জানায় বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি।
বার্তায় বলা হয়, দেশে তরল জ্বালানি ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রায় ১০ ধরনের লাইসেন্স নিতে হয়। এসব লাইসেন্স সংগ্রহে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বছরের পর বছর পার হলেও লাইসেন্স প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না।
সংগঠনটির মতে, পেট্রোল পাম্প মালিকরা মূলত কমিশনভিত্তিক এজেন্ট হিসেবে কাজ করেন। জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ পরিশোধ করে তেল সংগ্রহ করতে হয়। পরে সেই জ্বালানি বাজারে অনেক ক্ষেত্রে বাকিতে বিক্রি করতে হয় এবং বকেয়া আদায়ের ঝুঁকিও তাদেরই বহন করতে হয়।
মালিক সমিতির দাবি, পুরো বিক্রয় প্রক্রিয়ার দায়িত্ব পালন করলেও প্রকৃত মুনাফার বড় অংশ চলে যায় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে। অন্যদিকে পাম্প মালিকদের ওপর নতুন নতুন প্রশাসনিক নির্দেশনা ও বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে, যা ব্যবসা পরিচালনাকে আরও জটিল করে তুলছে।
বার্তায় আরও বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিয়ম মেনে ব্যবসা পরিচালনাকারী উদ্যোক্তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি মনে করে, তরল জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে এবং এই খাতের ব্যবসায়ীদের টিকিয়ে রাখতে দ্রুত নীতিগত ও প্রশাসনিক সংস্কার প্রয়োজন। অন্যথায় দেশের পেট্রোল পাম্প খাত আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে।
এএইচ/এফএ