বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনছে সরকার, খরচ কত?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৯ এএম

শেয়ার করুন:

১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনছে সরকার, খরচ কত?
জ্বালানি তেল। ফাইল ছবি

সরকারি দ্বিপক্ষীয় (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় চলতি বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ের জন্য ১৫ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করেছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। 

বুধবার (২৯ জুলাই) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৩তম সভায় এ সুপারিশ করা হয়।

সুপারিশকৃত ১৫ লাখ টন জ্বালানি তেল কিনতে সরকারের খরচ পড়বে প্রায় ১৬ হাজার ৮৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সমঝোতা অনুযায়ী নির্ধারিত প্রিমিয়াম, আমদানির পরিমাণ এবং প্রচলিত সূচক মূল্য বিবেচনায় ছয়টি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির প্রস্তাব উত্থাপন করে।

প্রস্তাব অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইএনওসি, চীনের পেট্রোচায়না ও ইউনিপেক, ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন লিমিটেড (আইওসিএল), থাইল্যান্ডের ওকিউটি এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি থেকে সরকারি দ্বিপক্ষীয় (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় জ্বালানি তেল আমদানি করা হবে। 

জ্বালানি তেল আমদানির পাশাপাশি সভায় বিভিন্ন উন্নয়ন ও অবকাঠামো-সংক্রান্ত আরও কয়েকটি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

এর মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ‘জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন ও ঝুঁকি হ্রাস (রিভার)’ প্রকল্পের আওতায় বগুড়া জেলার ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-কাম-বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে ১২৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকার কার্যাদেশ দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড (প্রধান অংশীদার) ও আহাদ বিল্ডার্স-এর যৌথ উদ্যোগকে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘দেশব্যাপী সার সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য ৩৪টি বাফার গুদাম নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের আওতায় লক্ষ্মীপুরে ১০ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার সার বাফার গুদাম নির্মাণে ৪৯ কোটি ১৪ লাখ টাকার কার্যাদেশ এমবিএল-আরইএল যৌথ উদ্যোগের অনুকূলে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

সভায় আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড পরিচালিত ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল (উত্তর) বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের সংশোধিত সমন্বিত বিদ্যুৎ ট্যারিফ অনুমোদনের সুপারিশও করা হয়।

সংশোধিত কাঠামো অনুযায়ী প্রতি ইউনিট (কিলোওয়াট-ঘণ্টা) বিদ্যুতের সমন্বিত ট্যারিফ ৪ দশমিক ০৯৪৫ মার্কিন সেন্ট বা ৫ দশমিক ০২৮১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ প্ল্যান্ট লোড ফ্যাক্টর, ১২ শতাংশ ডিসকাউন্ট ফ্যাক্টর, ৬ শতাংশ ইকুইটির ওপর মুনাফার হার, প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ১২২ টাকা ৮০ পয়সা এবং প্রতি এক হাজার স্ট্যান্ডার্ড কিউবিক ফুট (এসসিএফ) গ্যাসের মূল্য ৪৩৮ টাকা ৯১ পয়সা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) তিনটি পৃথক ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

এর মধ্যে চট্টগ্রামের মিরসরাই জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সাব-জোন ৬, ৭, ১১ ও ১৮-এ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নির্মাণে ১২৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকার কার্যাদেশ মনিকো লিমিটেডকে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

একইসঙ্গে বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক নির্মাণ (প্যাকেজ নম্বর ডব্লিউডি-৪এ-বিএসএমএসএন-বেজা) প্রকল্পে ২১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকার কার্যাদেশ রেভেরি পাওয়ার অ্যান্ড অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড-এর অনুকূলে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া ‘জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্পের পরামর্শক সেবার চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় সংশোধনের প্রস্তাবও অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী, পরামর্শক সেবার ব্যয় ৮৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। 

দক্ষিণ কোরিয়ার চেইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড, ইউশিন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন এবং বাংলাদেশের ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড প্ল্যানিং কনসালট্যান্টস লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগ এ পরামর্শক সেবা দিচ্ছে।

এএইচ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর