নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ জুলাই ২০২৬, ০১:০৪ পিএম
দেশে অনলাইন জুয়া ও বেটিং প্ল্যাটফর্মের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে উল্লেখ করে এসব কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন (বিএমপিসিএ)।
সংগঠনটি বলেছে, প্রযুক্তির অপব্যবহার, ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সহজলভ্যতা এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালিত জুয়া কার্যক্রম তরুণ সমাজ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে আর্থিক এবং সামাজিক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশে অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ব্যর্থতা রয়েছে। তিনি বলেন, অবৈধ সিম ব্যবহার এবং অনিয়ন্ত্রিতভাবে সিম বিক্রির সুযোগও অনলাইন জুয়া চক্রকে সহায়তা করছে। সম্প্রতি পুলিশের অভিযানে বিপুল সংখ্যক সিম উদ্ধার হওয়ার ঘটনাও এই বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন, অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেনে ব্যবহৃত মোবাইল আর্থিক সেবা বা ডিজিটাল পেমেন্ট অ্যাকাউন্ট দ্রুত শনাক্ত করে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে মোবাইল অপারেটর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পরিচালিত অবৈধ জুয়ার ওয়েবসাইট, এসএমএস প্রচারণা ও অন্যান্য ডিজিটাল কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি এবং ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।
মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হওয়ার কথা। কিন্তু অনলাইন জুয়ার বিস্তার প্রমাণ করছে যে, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। অনলাইন জুয়া বন্ধে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে এবং অবৈধ লেনদেন ও প্রচারণার পথ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করতে হবে।
বিএমপিসিএ বলেছে, বাংলাদেশে বিদ্যমান আইনে জুয়া নিষিদ্ধ হলেও বিভিন্ন বিদেশি বেটিং ও জুয়ার ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দিয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে।
সংগঠনটির মতে, অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), বাংলাদেশ ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, মোবাইল অপারেটর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।
এই লক্ষ্যে সংগঠনটি ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ওয়েবসাইট, অ্যাপ ও ডোমেইন দ্রুত শনাক্ত করে ব্লক করা; সন্দেহজনক মোবাইল আর্থিক সেবা ও ব্যাংকিং লেনদেন বন্ধ করা; মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে পরিচালিত অবৈধ জুয়া প্রচারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া; সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে স্থায়ী টাস্কফোর্স গঠন; জুয়ার অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ব্যাপক জনসচেতনতা কর্মসূচি চালু করা।
বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, শুধু ওয়েবসাইট বন্ধ করলেই অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। অবৈধ আর্থিক লেনদেন, প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর অপব্যবহার এবং অনলাইন প্রচারণা বন্ধে একযোগে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এই ধরনের অপরাধ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
এমআর/এফএ