নিজস্ব প্রতিবেদক
১৬ জুন ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
দক্ষ নেতৃত্ব, সমন্বিত টিমওয়ার্ক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকর ও ফলাফলমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একইসঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সংক্রান্ত আলোচনায় সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষজ্ঞ জনবল সংযোজন ও এফটিএ টিম সম্প্রসারণের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নবনিযুক্ত বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খানকে স্বাগত জানাতে আয়োজিত পরিচিতি সভায় এসব বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, নবনিযুক্ত সচিবের শক্তিশালী একাডেমিক ও পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পূর্বে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনবে। তার নেতৃত্বে মন্ত্রণালয় আরও দক্ষ, গতিশীল ও ফলাফলমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের একাধিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় আরও কার্যকরভাবে অংশ নিতে এফটিএ টিমকে সম্প্রসারণ ও শক্তিশালী করা হবে। পাশাপাশি বিশেষায়িত দক্ষতাসম্পন্ন নতুন জনবলও যুক্ত করা হবে।
মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হলে আরও বৃহৎ ও দক্ষ টিম গঠন করতে হবে। এ লক্ষ্যে সক্ষমতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হবে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন সহযোগী সংস্থাও এ বিষয়ে সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, মেধাবী ও যোগ্য কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে যোগ্য ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার ওপরও জোর দেন তিনি।
নবনিযুক্ত বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, আগামী অর্থবছরের পরিকল্পনা এবং পাঁচ বছর মেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জন্য নির্ধারিত লক্ষ্যসমূহ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, চলমান চুক্তি, নীতিমালা ও ট্রিটি বাস্তবায়নে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি আন্তঃমন্ত্রণালয় বিষয়গুলো দ্রুত চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ারও প্রয়োজন রয়েছে।
বিদেশে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক মিশনগুলোর কার্যক্রম আরও লক্ষ্যভিত্তিক ও ফলাফলনির্ভর করার আহ্বান জানিয়ে সচিব বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে এসব মিশনের কর্মদক্ষতা নিয়মিত মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্মসচিব, উপসচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমআর/ক.ম