images

অর্থনীতি

নির্মাণসামগ্রীর কর বৃদ্ধি ও গেইন ট্যাক্সে উদ্বেগ, পুনর্বিবেচনার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৫ জুন ২০২৬, ০২:২৫ পিএম

প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধভাবে আবাসন খাতে বিনিয়োগের সুযোগকে স্বাগত জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। তবে নির্মাণসামগ্রীর ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ এবং জমির মালিকদের প্রাপ্ত ফ্ল্যাটের ওপর নতুন গেইন ট্যাক্স প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে সংগঠনটি।

সোমবার (১৫ জুন) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ উপলক্ষে রিহ্যাবের প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন রিহ্যাব সভাপতি ড. আলী আফজাল।

তিনি বলেন, ‘অপ্রদর্শিত অর্থ অর্থনীতির মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকারের উদ্যোগ ইতিবাচক পদক্ষেপ। এতে আবাসন খাতে বিনিয়োগ বাড়বে, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতিতে তারল্য প্রবাহ জোরদার হবে।’

তবে আবাসন খাত বর্তমানে নানা সংকটের মুখোমুখি বলে উল্লেখ করেন তিনি। উচ্চ সুদহার, দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণের সীমাবদ্ধতা, বিক্রয় স্থবিরতা, ব্যাংকঋণের চাপ, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট খাতটিকে চাপে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেন রিহ্যাব সভাপতি।

রিহ্যাবের তথ্য অনুযায়ী, দেশের আবাসন খাতের সঙ্গে প্রায় ২৬৯টি শিল্পখাত জড়িত এবং জাতীয় অর্থনীতিতে নির্মাণখাতের অবদান প্রায় ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান এ খাতের ওপর নির্ভরশীল।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে ফ্ল্যাট ও জমি নিবন্ধনে ব্যয় ১৩ শতাংশেরও বেশি হওয়ায় ক্রয়-বিক্রয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। এ ব্যয় ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা বাজেটে প্রতিফলিত হয়নি। একইসঙ্গে দীর্ঘদিনের দাবি ‘সেকেন্ডারি মার্কেট’ গঠনের বিষয়টিও উপেক্ষিত হয়েছে বলে অভিযোগ করে সংগঠনটি।

ড. আলী আফজাল বলেন, ‘জমির মালিকদের দেওয়া সাইনিং মানির ওপর বিদ্যমান ১৫ শতাংশ করের পাশাপাশি নতুন করে প্রাপ্ত ফ্ল্যাটের মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্স আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে আবাসন খাতে নতুন জটিলতা তৈরি হবে।’

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘কোনো প্রকল্পে জমির মালিকের অংশে পাওয়া ফ্ল্যাটগুলোর মূল্য ১২ কোটি টাকা হলে নতুন কর ব্যবস্থায় প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা কর পরিশোধ করতে হবে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাট ক্রেতাদের ওপরই পড়বে।’

এ সময় নির্মাণসামগ্রীর ওপর কর ও শুল্ক বৃদ্ধিরও সমালোচনা করা হয়। রিহ্যাবের মতে, রড, পিভিসি রেজিন, পেট রেজিন, কোল্ড-রোল্ড কয়েল, কপার তার ও কপার টিউবসহ বিভিন্ন উপকরণের ওপর কর বৃদ্ধির ফলে নির্মাণ ব্যয় বাড়বে এবং আবাসনের মূল্য আরও ঊর্ধ্বমুখী হবে।

সংগঠনটি নতুন আরোপিত কর প্রত্যাহার, নিবন্ধন ব্যয় কমানো এবং সহজ শর্তে এক অঙ্কের সুদে গৃহঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে জাতীয় বাজেট পাসের আগে আবাসন খাত-সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাস, আবু খালিদ মো. বরকত উল্লাহ, এ এফ এম ওবায়দুল্লাহ, ড. মো. হারুন অর রশিদ এবং মোহাম্মদ মুরশিদুল হাসানসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এমআর/এমআই