images

অর্থনীতি

আজও বিক্ষোভে উত্তাল ইসলামী ব্যাংক, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

০৭ জুন ২০২৬, ০১:১৫ পিএম

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমের পদত্যাগ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ওমর ফারুক খানের পুনর্বহালের দাবিতে টানা আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজও মতিঝিলে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন গ্রাহকরা।

রোববার (৭ জুন) পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী বেলা ১১টার দিকে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’ এর ব্যানারে প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রস্তুত রাখা হয় জলকামান ও সাঁজোয়া যান।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তারা নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল, ব্যাংকের পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং সাবেক এমডি মো. ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবি জানান।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন গ্রাহক আবুল খায়ের আজাদ। তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ কৌশলে ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়। বর্তমান চেয়ারম্যান মো. খুরশিদ আলমকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্তে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করেন।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে ইসলামী ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে এবং এতে তৎকালীন বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা ছিল।

আবুল খায়ের আজাদ বলেন, সাধারণ আমানতকারী ও গ্রাহকরা আর কোনোভাবেই ব্যাংকটিকে লুটপাটকারীদের হাতে ছেড়ে দেবেন না।

ইসলামী ব্যাংক একটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের কোটি কোটি গ্রাহকের আস্থার এই প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা করতে দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের প্রভাবমুক্ত করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

এর আগে গত সোমবার একই দাবিতে ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। ওইদিন আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।

প্রসঙ্গত, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। পরে সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশিদ আলমকে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এর মধ্যেই গত সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত ব্যাংকের এক ভার্চুয়াল বোর্ড সভায় এমডি মো. ওমর ফারুক খানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়।

টিএই/এফএ