আব্দুল হাকিম
১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১০ এএম
** প্রকল্প ব্যয় ১০৮২ কোটি টাকা থেকে ১৫০০ কোটি টাকা প্রস্তাব
** ব্যয় বৃদ্ধির হার প্রায় ৩৮.৬৪ শতাংশ
** প্রকল্প সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে
** স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে স্কিম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে
দেশজুড়ে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের জন্য দেড় হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে অস্বাভাবিকভাবে ব্যয় বাড়ানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ‘সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২’ শীর্ষক প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত প্রস্তাবে মোট ব্যয় ১ হাজার ৮২ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় নেওয়ার উদ্যোগ করা হয়েছে।
এতে প্রকল্প ব্যয় প্রায় ৩৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে হঠাৎ ব্যয় বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় চাহিদার কথা উল্লেখ করে নতুন নতুন স্কিম অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি সামনে আসায় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রকল্প সংশোধনের মাধ্যমে ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হলেও নতুন স্কিমগুলো কতটা জরুরি, সেগুলোর অগ্রাধিকার কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এতে প্রকৃত উপকারভোগী কারা—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে পুরো উদ্যোগের কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি মূলত দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, সংস্কার ও সম্প্রসারণের জন্য নেওয়া হয়। মসজিদ, মন্দির, কবরস্থান, শ্মশানসহ নানা ধরনের সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক সম্প্রীতি জোরদার এবং জনসেবার মান উন্নয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। ২০২২ সালের মার্চ মাসে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হয় এবং একই বছরের জুলাই থেকে তা বাস্তবায়ন শুরু হয়।
প্রকল্পের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবায়ন অগ্রগতি, ব্যয় কাঠামোর পরিবর্তন এবং নতুন চাহিদার কারণে প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো বরাদ্দ না পাওয়া এবং মাঠপর্যায়ে কিছু কাজের ধীরগতির কারণে এই সময় বৃদ্ধি প্রয়োজন হয়েছে। তবে এ নিয়ে সমালোচনাও কম নয়। অনেকেই মনে করছেন, পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় যথাযথ বাস্তবতা বিবেচনায় না নেওয়ার ফলেই এখন প্রকল্পে সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়াতে হচ্ছে।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো নির্মাণ সামগ্রীর দাম এবং শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধি। এলজিইডির ২০২০-২১ অর্থবছরের দর তালিকার ভিত্তিতে মূল প্রাক্কলন তৈরি করা হলেও পরবর্তীতে ২০২২ এবং ২০২৩ সালে দর তালিকা সংশোধন করা হয়, ফলে ব্যয় স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, শুধু বাজারদর বৃদ্ধিকে দায়ী করলেই পুরো ব্যাখ্যা দেওয়া হয় না। পরিকল্পনার সময়ই যদি বাস্তবসম্মত হিসাব করা হতো, তাহলে এত বড় ব্যবধান তৈরি হওয়ার কথা নয়।
এছাড়া প্রকল্পে নতুন স্কিম অন্তর্ভুক্তির বিষয়টিও ব্যয় বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিদের চাহিদার ভিত্তিতে নতুন নতুন কাজ যুক্ত করা হয়েছে। এতে প্রকল্পের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনি ব্যয়ও বেড়েছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়াটি কতটা স্বচ্ছ এবং কতটা প্রয়োজনভিত্তিক, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ মনে করছেন, রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই স্কিম অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে, যা প্রকল্পের মূল লক্ষ্যকে দুর্বল করতে পারে।
প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৫ হাজার ৫৫০টি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে উন্নয়ন কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক প্রতিষ্ঠানে কাজ বাস্তবায়ন করা বড় চ্যালেঞ্জ। মাঠপর্যায়ে সমন্বয়ের ঘাটতি, তদারকির দুর্বলতা এবং প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে কাজের ধীরগতি এবং পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তব অগ্রগতির অমিলের অভিযোগও উঠেছে।
২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি প্রায় ৬৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ হলেও বাস্তব অগ্রগতি সেই তুলনায় কম বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অর্থাৎ অর্থ ব্যয় হলেও কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রত্যাশিত মাত্রায় হয়নি।
এ ধরনের পরিস্থিতি প্রকল্প ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অর্থ ব্যয়ের সঙ্গে কাজের গতি ও মানের সামঞ্জস্য না থাকলে প্রকল্পের কার্যকারিতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হয়।
প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা, আউটসোর্সিং, ভ্রমণ, জ্বালানি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক খাতেও বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা ভাতা চালু হওয়া এবং বিভিন্ন ভাতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাজস্ব ব্যয় বেড়েছে। পাশাপাশি আউটসোর্সিং কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্তও ব্যয় বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে। যদিও এসব ব্যয় অনেক ক্ষেত্রে বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবুও সামগ্রিক ব্যয় কাঠামোতে এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
পরিকল্পনা কমিশনও প্রকল্পটি নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। বিশেষ করে ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা, এলাকাভিত্তিক বরাদ্দের ভারসাম্য এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কিছু জেলায় বেশি বরাদ্দ এবং কিছু জেলায় তুলনামূলক কম বরাদ্দের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এতে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বৈষম্যের আশঙ্কা তৈরি হয়।
পরিকল্পনা কমিশন বিভিন্ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং তা বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনার সুপারিশ করা হয়েছে।
বেতনভাতা, আউটসোর্সিং, প্রচার ও বিজ্ঞাপন, পেট্রোল-ওয়েল-লুব্রিকেন্ট, ভ্রমণ, সম্মানী এবং মোটরযান মেরামত খাতে যে অতিরিক্ত ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে, সেগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
পাশাপাশি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত আইন পিপিএ-২০০৬ এবং বিধিমালা পিপিআর-২০০৮ অনুসারে একটি সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ ক্রয়পরিকল্পনা প্রণয়ন করা জরুরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা যায়।
এলাকাভিত্তিক বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্যের বিষয়টিও পরিকল্পনা কমিশনের নজরে এসেছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কোনো কোনো জেলায় তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে, আবার কিছু জেলায় বরাদ্দ অত্যন্ত কম।
এ ধরনের অসামঞ্জস্য সুষম উন্নয়নের লক্ষ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তাই দেশের সব জেলা ও উপজেলায় সমতা বজায় রেখে বরাদ্দ নির্ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যাতে উন্নয়নের সুফল সমভাবে বণ্টিত হয় এবং কোনো অঞ্চল পিছিয়ে না থাকে।
একই সঙ্গে প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে একটি নির্দিষ্ট এক্সিট প্ল্যান প্রণয়ন এবং সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এলাকাভিত্তিক কতগুলো প্রতিষ্ঠান এই প্রকল্পের আওতায় আসবে, তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও পরিমাণ উল্লেখ করার কথাও বলা হয়েছে।
এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা গেলে প্রকল্প ব্যবস্থাপনা আরও সুসংগঠিত হবে এবং সামগ্রিকভাবে প্রকল্পের সফলতা অর্জনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন।
পরিকল্পনা কমিশনের পল্লী প্রতিষ্ঠান ও সমন্বয় অনুবিভাগের যুগ্মপ্রধান মোছা. আনার কলি বলেন, প্রকল্পের আওতায় সমাপ্ত, চলমান, বাতিল এবং নতুন প্রস্তাবিত সব স্কিমের পৃথক তালিকা ডিপিপিতে সংযুক্ত করা প্রয়োজন। এ বিষয়গুলো সভায় বিস্তারিতভাবে আলোচনা হলে প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাস্তব অগ্রগতি মূল্যায়ন করা সহজ হবে।
প্রকল্পের অধীনে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানগুলো অন্য কোনো সরকারি উৎস থেকে অনুদান পাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক উৎস থেকে অর্থায়ন হলে দ্বৈত বরাদ্দের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থ ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতি সৃষ্টি করতে পারে।
আনার কলি বলেন, বিভিন্ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়েও পর্যালোচনা প্রয়োজন। বিশেষ করে বেতনভাতা, আউটসোর্সিং, প্রচার ও বিজ্ঞাপন, পেট্রোল-ওয়েল-লুব্রিকেন্ট, ভ্রমণ, সম্মানী এবং মোটরযান মেরামত খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রস্তাবগুলোর প্রয়োজনীয়তা ও বাস্তবতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত আইন পিপিএ-২০০৬ এবং বিধিমালা পিপিআর-২০০৮ অনুসারে একটি সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ ক্রয়পরিকল্পনা প্রণয়ন করা জরুরি। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বৃদ্ধি সবসময়ই অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু যখন সেই বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হয় এবং তার সঙ্গে বাস্তব অগ্রগতির সামঞ্জস্য দেখা যায় না, তখন তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। এই প্রকল্পের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। পরিকল্পনার সময় বাস্তবসম্মত হিসাব না করা, পরবর্তীতে নতুন স্কিম যুক্ত করা এবং বাজারদরের পরিবর্তন করার ফলে প্রকল্পটি নিয়ে প্রশ্নে উঠছে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত পিএসসি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদার ভিত্তিতে নতুন স্কিম অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজন দেখা দেয়, যার ফলে ডিপিপি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পের প্রাথমিক ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছিল এলজিইডির ২০২০-২১ অর্থবছরের দর তালিকা অনুসারে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নির্মাণ সামগ্রীর দাম এবং শ্রমিক মজুরি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০২২ সালের জুন মাসে দর তালিকা সংশোধন করা হয়।
পরে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিয়ে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবারও দর তালিকা হালনাগাদ করা হয়। এই ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রকল্প ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায় এবং অনুমোদিত ব্যয়ের তুলনায় অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, যা ব্যয় বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করে উপজেলা ভিত্তিক বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হওয়ায় প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কারণেই প্রকল্পের মোট ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রকল্প পরিচালক স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মো. রবিউল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন স্তর থেকে পাওয়া মতামত ও স্থানীয় জনগণের প্রয়োজনীয়তা অন্তর্ভুক্ত করায় প্রকল্পের পরিধি বাড়ায় ব্যয় বৃদ্ধির একটি প্রধান কারণ। এতে প্রকল্পের কার্যকারিতা বাড়বে এবং স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা আরও ভালোভাবে প্রতিফলিত হবে।
প্রকল্পের প্রাথমিক ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছিল এলজিইডির ২০২০-২১ অর্থবছরের দর তালিকার ভিত্তিতে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে নির্মাণসামগ্রী ও শ্রমিক মজুরির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় ২০২২ সালের জুনে দর তালিকা সংশোধন এবং ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুনরায় হালনাগাদ করা হয়। ধারাবাহিক এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে এবং অতিরিক্ত বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
রবিউল ইসলাম বলেন, সামাজিক ও ধর্মীয় অবকাঠামো মানুষের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কবরস্থান, শ্মশান, ঈদগাহসহ বিভিন্ন স্থাপনার উন্নয়ন গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষভাবে প্রয়োজনীয়। জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সঙ্গে এসব অবকাঠামোর সম্প্রসারণ, সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের চাহিদাও বেড়েছে।
প্রকল্পের আওতায় দেশের সব অঞ্চলে এসব প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা হবে এবং অন্য কোনো উৎস থেকে উন্নয়ন কাজ চলমান থাকলে তা তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দ্বৈততা এড়ানো হবে।
এএইচ/এআরএম