images

অর্থনীতি

নবায়নযোগ্য উৎস থেকে জ্বালানি সরবরাহের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০২ পিএম

দেশের উৎপাদনশীলতা ধরে রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানোর বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকরা। 

তারা বলেন, আমদানি-নির্ভর জ্বালানি কাঠামো থেকে বেরিয়ে এসে পরিচ্ছন্ন শক্তির ব্যবহার বাড়াতে পারলে শিল্প, কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির ধারাবাহিকতা আরও শক্তিশালী হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সবুজ জ্বালানি অলিম্পিয়াড ২০২৬-এর গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। 

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপ-উপাচার্য ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে দ্রুত নবায়নযোগ্য জ্বালানির পথে এগোতে হলে বড় অবকাঠামো প্রকল্পের পাশাপাশি মানুষের দৈনন্দিন জ্বালানি ব্যবহারের অভ্যাসেও পরিবর্তন আনতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচনায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-এর গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিনিয়োগ বিশ্ববাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করে রেখেছে। 

এ পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটাতে হলে শক্তিশালী যুক্তি, কার্যকর পরিকল্পনা এবং বাস্তবসম্মত নীতি উদ্যোগ প্রয়োজন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি-এর প্রধান সমন্বয়ক তাসলিমা ইসলাম শর্মী, শক্তি ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক ইমরান আহমেদ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রোগ্রাম ম্যানেজার তাইফ হোসেন। তারা পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার সম্প্রসারণে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপকূলীয় জীবনযাত্রা ও পরিবেশ কর্মজোট (ক্লিন)-এর নেটওয়ার্কিং অ্যাডভাইজার মনোয়ার মোস্তফা। 

তিনি বলেন, দেশের পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে এখনও আমদানি-নির্ভর জ্বালানির ব্যবহার বেশি। তরুণরা নতুন প্রযুক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে জ্বালানি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন দ্রুত সম্ভব।

আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে জলবায়ু সচেতনতা, জ্বালানি রূপান্তর ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে আগ্রহ বাড়াতে এই আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দুইদিনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও আলোচনা পর্বে অংশ নিয়ে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, সবুজ জ্বালানি অলিম্পিয়াড প্রথমবার আয়োজন করা হয় ২০২৫ সালে, যেখানে ১৫০টির বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। 

এবার দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত প্রতিযোগিতায় দেশের ১৪৭টির বেশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। তিন ধাপের বাছাই শেষে সেরা ৫০ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় চূড়ান্ত পর্ব।

এর আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন তরুণদের নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়ায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ আরও বাড়াবে।

এমআর/এআরএম