নিজস্ব প্রতিবেদক
০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪২ এএম
ঈদুল ফিতরের পর রাজধানীর বাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম বাড়তির দিকে থাকলেও পোলট্রি মুরগি, ফার্মের ডিম এবং কয়েক ধরনের চাষের মাছের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে আংশিক স্বস্তি দেখা যাচ্ছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় এসব পণ্যের দাম এখন তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজান মাসের তুলনায় বয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায়। রমজান মাসে একই মুরগি বিক্রি হয়েছিল ২১০ থেকে ২২০ টাকায়। অন্যদিকে সোনালি ও পাকিস্তানি জাতের মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩১০ থেকে ৩২০ টাকায়।
ডিমের বাজারেও কিছুটা ওঠানামা থাকলেও সামগ্রিকভাবে দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রতি ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকায়। গত সপ্তাহে এই দাম ছিল প্রায় ১০০ টাকা। এর আগে ছিল ১০৫ টাকা এবং মাঝামাঝি সময়ে নেমে এসেছিল ৯৫ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহের তারতম্যের কারণে ডিমের দামে এমন ওঠানামা হচ্ছে।
তবে হাঁসের ডিমের দাম এখনো বেশি রয়েছে। প্রতি হালি হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৭০ টাকায়।

মাছের বাজারে সামগ্রিকভাবে দাম বেশি থাকলেও কয়েক ধরনের চাষের মাছ এখনো ক্রেতাদের স্বস্তি দিচ্ছে। বাজারে প্রতি কেজি পাঙ্গাস মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২১০ টাকায়। চাষের মাগুর মাছ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১৫০ টাকায়। এছাড়া আকারভেদে তেলাপিয়া মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২৪০ টাকার মধ্যে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে বয়লার মুরগি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী সাইদুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, রমজানের সময় মুরগির দাম অনেক বেশি ছিল। এখন কিছুটা কমেছে। সবজির দাম বেশি হলেও মুরগি আর ডিমের দাম কম থাকায় সংসার চালাতে একটু সুবিধা হচ্ছে।
আরেক ক্রেতা গৃহিণী শাম্মি আক্তার বলেন, ডিমের দাম কিছুদিন পরপরই ওঠানামা করছে। তবে আগের মতো খুব বেশি না থাকায় নিয়মিত কেনা যাচ্ছে। মাছের মধ্যে পাঙ্গাস আর তেলাপিয়া তুলনামূলক সাশ্রয়ী লাগছে।
একই বাজারের পোল্ট্রি বিক্রেতা আব্দুল মালেক ঢাকা মেইলকে বলেন, রমজানে চাহিদা বেশি থাকায় দাম বেশি ছিল। এখন চাহিদা কিছুটা কমেছে, তাই দামও কমেছে। খামার থেকে সরবরাহ ঠিক থাকলে এই দাম কিছুদিন থাকবে।

ডিম বিক্রেতা মো. রফিকুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, ডিমের দাম পুরোপুরি স্থির থাকে না। সরবরাহ বেশি হলে কমে, কম হলে বাড়ে। এখন মোটামুটি মাঝামাঝি অবস্থায় আছে।
মাছ বিক্রেতা জসিম উদ্দিন জানান, বড় মাছের দাম বেশি। কিন্তু চাষের পাঙ্গাস, মাগুর, তেলাপিয়া নিয়মিত আসছে বলে এগুলোর দাম কম রাখা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ এগুলোই বেশি কিনছেন।
তবে সবজির বাজারে এখনো স্বস্তি নেই বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। অনেকেই বলছেন, পোল্ট্রি ও কিছু মাছের দাম কম থাকলেও সবজির উচ্চমূল্যের কারণে বাজারে পুরোপুরি স্বস্তি ফিরেনি। ফলে সামগ্রিকভাবে ব্যয় কমলেও পরিবারের দৈনন্দিন বাজার খরচ এখনো চাপের মধ্যেই রয়েছে।
এমআর/জেবি