images

অর্থনীতি

এলএনজি, কয়লা ও জ্বালানির মূল্য নিয়ে ১৩ দফা দাবি ক্যাবের

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩১ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম

এলএনজি আমদানি, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং জ্বালানির মূল্য কাঠামো পুনর্বিন্যাসসহ ১৩ দফা দাবি তুলে ধরেছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) যুব সংসদ। সংগঠনটি বলেছে, জ্বালানি খাতে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও ভোক্তা-স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাজধানীর সিরডাপের এ টি এম শামসুল হক মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় এসব দাবি তুলে ধরা হয়।

ক্যাবের ১৩ দফা দাবি হলো—

* বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক জ্বালানি খাতকে বাণিজ্যিক খাত থেকে পুনরায় সেবাখাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং মুনাফামুক্ত সরকারি সেবা নিশ্চিত করে ‘কস্ট প্লাস’ নয়, ব্যয়ভিত্তিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা।

* জ্বালানি দক্ষতা ও সংরক্ষণ বাড়িয়ে আগামী পাঁচ বছরে জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি কমপক্ষে ৫ শতাংশ কমানো।

* সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করে পাঁচ বছরে গড়ে ১৫ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং ছোট শিল্পে অগ্রাধিকার দেওয়া।

* এলএনজি আমদানি বৃদ্ধি পাঁচ বছরের জন্য স্থগিত করা এবং কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্প্রসারণ বন্ধ করা; বাপেক্সসহ দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন নিশ্চিত করা।

* ছাতক (পূর্ব) ও ভোলা-দক্ষিণাঞ্চলের অব্যবহৃত গ্যাস মজুত ব্যবহারে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন।

* আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানি চুক্তি বাতিল করা।

* স্পিডি অ্যাক্ট সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো বাতিল, চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন এবং ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করা; ক্ষতির দায় সংশ্লিষ্টদের থেকে আদায়।

* জ্বালানি খাতে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের ‘জ্বালানি অপরাধী’ হিসেবে বিচারের আওতায় আনা।

* বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যহার কমাতে ব্যয় ও মুনাফা কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং এলপিজি বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা।

* সরকারি মালিকানায় এলপিজি টার্মিনাল ও রিফাইনারি স্থাপন এবং অন্তত ৫০ শতাংশ আমদানি ও সংরক্ষণ সক্ষমতা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনা।

* বিইআরসির জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং প্রস্তাবিত আইন সংশোধন বাস্তবায়ন।

* ক্যাব প্রস্তাবিত জ্বালানি রূপান্তর নীতি-২০২৪ অনুযায়ী গণবান্ধব জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করা।

* আন্তর্জাতিক জীবাশ্ম জ্বালানি সুরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর থেকে বিরত থাকা।

গোলটেবিলে ক্যাব নেতারা বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়ন করা হলে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা পাবে এবং ভোক্তারা সরাসরি উপকৃত হবেন।


এএইচ/এফএ