মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হওয়ায় বাংলাদেশে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে অনলাইন মনিটরিং সিস্টেম চালুর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন। সরকারিভাবে জ্বালানি সংকট অস্বীকার করা হলেও দেশের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে পর্যাপ্ত সরবরাহে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে ভোক্তারা একাধিক পাম্প ঘুরেও জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন না বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। এ অবস্থায় প্রচলিত রেশনিং ব্যবস্থা কার্যকর সমাধান দিতে ব্যর্থ হওয়ায় জ্বালানি কার্ড চালুর উদ্যোগও কাঙ্ক্ষিত ফল দেবে না বলে মনে করছে তারা।
এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি উত্তোলন ও বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে আধুনিক অনলাইনভিত্তিক Fuel Monitoring & Distribution System (FMDS) চালুর প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার মনোভাব থেকেই একটি প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান প্রস্তাব করা হয়েছে, যা জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
প্রস্তাবিত এই কেন্দ্রীভূত অনলাইন প্লাটফর্মের তত্ত্বাবধানে থাকবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে তেল বিপণন কোম্পানি (OMCs), ডিপো ও টার্মিনাল, পেট্রোল পাম্প, ট্যাংকার অপারেটর এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো।
সিস্টেমটির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত জ্বালানি উত্তোলন নিশ্চিত করা, অবৈধ মজুত, চুরি ও অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং ন্যায্য ও সমান বিতরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে থাকবে ডিলার পোর্টালের মাধ্যমে দৈনিক স্টক আপডেট, অনলাইন চাহিদা জমা ও ডেলিভারি নিশ্চিতকরণ সুবিধা; কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডে জাতীয় স্টক মনিটরিং, ব্যবহার বিশ্লেষণ ও সতর্কতা ব্যবস্থা; বরাদ্দ ও কোটা মডিউল এবং ট্যাংকার শিডিউল, রুট অপ্টিমাইজেশন ও জিপিএস ট্র্যাকিংসহ লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা।
বিজ্ঞাপন
এ ছাড়া কার্যপ্রক্রিয়ায় থাকবে দৈনিক স্টক রিপোর্ট থেকে শুরু করে ব্যবহার বিশ্লেষণ, চাহিদা যাচাই, সরকারি অনুমোদন, বরাদ্দ, পরিবহন ট্র্যাকিং, ডেলিভারি নিশ্চিতকরণ ও অডিট নিয়ন্ত্রণের সমন্বিত ধাপ।
সিস্টেমটিতে কোটা নিয়ন্ত্রণ, রিয়েল-টাইম সতর্কতা, জিপিএস ভিত্তিক নজরদারি এবং কেন্দ্রীয় অনুমোদন অডিট লগ সুবিধাও যুক্ত থাকবে।
সংগঠনটির মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে অবৈধ উত্তোলন বন্ধ হবে, স্বচ্ছতা বাড়বে, দুর্নীতি কমবে এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে।
ভবিষ্যতে এতে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) সংযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চাহিদা পূর্বাভাস এবং মোবাইল অ্যাপ চালুর মতো সুবিধা যুক্ত করারও পরিকল্পনা রয়েছে।
সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে, এই অনলাইন সিস্টেম বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাতে একটি আধুনিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক কাঠামো প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
এমআর/এফএ

