images

অর্থনীতি

রাজস্বে বড় ধাক্কা, বেড়েই চলেছে ঘাটতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৭ মার্চ ২০২৬, ১১:৫২ এএম

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই–ফেব্রুয়ারি) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায়ে বড় ধাক্কা লেগেছে। সময় যত গড়াচ্ছে, রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ ততই বাড়ছে ক্রমবর্ধমান হারে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এ সময়ে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৪৭১ কোটি টাকায়, যা অর্থনীতিতে চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এনবিআরের রাজস্ব আদায়ের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, অর্থবছরের প্রথম আট মাসে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ২৫ হাজার ৮০২ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৩০ কোটি টাকা। যদিও গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রাজস্ব আদায়ে ১৩.৩৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, তবু লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বড় ঘাটতি থেকেই গেছে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে। এ খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে মাত্র ৮৫ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন

রাজস্ব ঘাটতি পূরণে এনবিআরের কাছে পরিকল্পনা চাইল সরকার

এদিকে আমদানি–রফতানি শুল্ক খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৯ হাজার ৭৮ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৭১ হাজার ৯১২ কোটি টাকা, ফলে ঘাটতি হয়েছে ১৭ হাজার ১৬৬ কোটি টাকা।

Port
রাজস্ব ঘাটতি অর্থনীতিতে বাড়াবে চাপ। ছবি: সংগৃহীত

অন্যদিকে ভ্যাট খাতেও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা গেছে। এ সময়ে ভ্যাট আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার ২১৩ কোটি টাকা। বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৭ হাজার ২৮১ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা।

আরও পড়ুন

২০২৬–২৭ অর্থবছর: রাজস্ব খাতে অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রস্তাব চাইল এনবিআর

শুধু সামগ্রিক হিসাবেই নয়, একক মাস হিসেবেও রাজস্ব আদায়ে মন্দা প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ফেব্রুয়ারি মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২ হাজার ৫১ কোটি টাকা, কিন্তু আদায় হয়েছে ৩০ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। এতে এক মাসেই প্রায় ১১ হাজার ৪৯০ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

চলতি অর্থবছরের শুরুতে এনবিআরের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। পরে বাজেট মনিটরিং ও সম্পদ কমিটির সিদ্ধান্তে তা বাড়িয়ে ৫ লাখ ৫৪ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।

এমআর/জেবি