শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ঢাকা

রাজস্ব ঘাটতি পূরণে এনবিআরের কাছে পরিকল্পনা চাইল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

প্রধানমন্ত্রীর বিদেশে যাওয়া-আসার সময় বিমানবন্দরে থাকবেন মাত্র ৪ জন

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর কাছে বাড়তি রাজস্ব সংগ্রহের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানতে চেয়েছে সরকার। জিডিপিতে রাজস্বের অবদান বা ‘ট্যাক্স টু জিডিপি রেশিও’ ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য সামনে রেখে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় সোয়া লাখ কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায় করতে হবে। অর্থাৎ, রাজস্ব প্রবৃদ্ধি প্রায় ৩৪ শতাংশে উন্নীত করতে হবে।


বিজ্ঞাপন


তবে বাস্তব পরিস্থিতি এই লক্ষ্য থেকে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই ২০২৫ থেকে জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সাত মাসে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ শতাংশেরও কম।

এই প্রেক্ষাপটে বুধবার (১১ মার্চ) অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এনবিআর সদর দপ্তরে সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি চলতি অর্থবছরের বাকি চার মাসে—মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত—কোন কোন খাত থেকে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা সম্ভব এবং সে জন্য কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা দ্রুত সরকারের কাছে জানাতে এনবিআরকে নির্দেশ দেন।

বৈঠকে উপস্থিত ভ্যাট বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বাকি সময়ের মধ্যে রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো কঠিন। তবে বকেয়া রাজস্ব আদায়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করলে কিছুটা অগ্রগতি সম্ভব।

এই কর্মকর্তা বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও স্থানীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও রাজস্ব আদায়ের জন্য অনুকূল নয়। উন্নয়ন প্রকল্পের গতি কমে গেছে, একই সঙ্গে আমদানি ও রফতানির প্রবৃদ্ধিও প্রত্যাশিত নয়। এ অবস্থায় এত বড় অঙ্কের রাজস্ব সংগ্রহ করা সহজ হবে না। এছাড়া অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে নতুন করে কর বৃদ্ধি করার সুযোগও সীমিত।


বিজ্ঞাপন


তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে রাজস্ব বাড়াতে বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় এক লাখ কোটি টাকার বকেয়া রাজস্ব রয়েছে। এর একটি বড় অংশ এখনো অমীমাংসিত রয়েছে এবং কিছু অংশ আইনি জটিলতা বা মামলার কারণে আটকে আছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, বকেয়া আদায়ে জোরালো অভিযান চালানো গেলে বাকি সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আদায় করা সম্ভব।

রাজস্ব আদায়ের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণেও দেখা গেছে, গত তিন মাসে আদায়ের গতি কিছুটা মন্থর হয়ে পড়েছে। অর্থবছরের শুরুতে যে প্রবৃদ্ধির ধারা ছিল, সময়ের সঙ্গে তা ক্রমেই কমে এসেছে। ফলে স্বাভাবিক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা এনবিআরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমআর/ক.ম 

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর