images

অর্থনীতি

বাংলাদেশিদের ডেবিট কার্ড ব্যয়ে শীর্ষে ব্রিটেন, ক্রেডিটে আমেরিকা

মহিউদ্দিন রাব্বানি

২৩ মার্চ ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম

বিদেশে বাংলাদেশি ব্যাংকের ইস্যু করা ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়ছে। আগে বিদেশে লেনদেনের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারই বেশি দেখা গেলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই ধারা বদলাতে শুরু করেছে। এখন ডেবিট কার্ডও বিভিন্ন সেবা গ্রহণ, কেনাকাটা এবং দৈনন্দিন ব্যয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে বৈদেশিক লেনদেনে দুই ধরনের কার্ডই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিদেশে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে ডেবিট কার্ড ব্যবহারের তালিকায় প্রথম অবস্থানে রয়েছে ব্রিটেন বা যুক্তরাজ্য। দেশ দুটিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, প্রবাসী ও পর্যটকদের উপস্থিতি বেশি থাকায় সেখানে কার্ড লেনদেনের পরিমাণও তুলনামূলক বেশি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসে বিদেশে বাংলাদেশিদের মোট ক্রেডিট কার্ড লেনদেনের প্রায় ১৪ শতাংশ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। একই সময়ে ডেবিট কার্ডের মোট বৈদেশিক লেনদেনের প্রায় ১৬ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে যুক্তরাজ্যে। অর্থাৎ দুটি ক্ষেত্রেই এই দেশ দুটি শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে।

আরও পড়ুন

ক্রেডিট কার্ড সঠিক নিয়মে ব্যবহার করছেন তো?

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে থাইল্যান্ড। এরপর রয়েছে যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর এবং ভারত। বিদেশে বাংলাদেশিদের ক্রেডিট কার্ডে মোট ব্যয়ের অর্ধেকেরও বেশি হয়েছে এই পাঁচ দেশে।

Card2
বাংলাদেশিদের কার্ডের সিংহভাগ ব্যবহার হয় কেনাকাটায়। ছবি: সংগৃহীত

অন্যদিকে ডেবিট কার্ড ব্যবহারের শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকায় রয়েছে যথাক্রমে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, সৌদি আরব এবং আয়ারল্যান্ড। বিদেশে ডেবিট কার্ডে হওয়া মোট লেনদেনের প্রায় ৫৫ শতাংশই হয়েছে এসব দেশে।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় সেখানে ডেবিট কার্ড ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্য। বিদেশে পড়াশোনা করতে যাওয়া অনেক শিক্ষার্থী দ্বৈত মুদ্রায় ব্যবহারযোগ্য ডেবিট কার্ড সঙ্গে নিয়ে যান। পরে দেশে থাকা পরিবার তাদের হিসাবে নিয়মিত অর্থ জমা দিলে তারা সহজেই বিদেশে বসেই সেই অর্থ ব্যবহার করতে পারেন। ফলে ডেবিট কার্ড তাদের জন্য একটি সুবিধাজনক মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, বিদেশে সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে ডেবিট কার্ডের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। এরপর রয়েছে ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে কেনাকাটা এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক সেবা গ্রহণ। অন্যদিকে ক্রেডিট কার্ড সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে ডিপার্টমেন্ট স্টোরে কেনাকাটায়। এর পরের অবস্থানে রয়েছে খুচরা দোকান এবং পরিবহন খাত।

আরও পড়ুন

নিরাপদে অনলাইনে কেনাকাটা করতে এসব নিয়ম মানুন

সংশ্লিষ্টরা জানান, ডেবিট কার্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুদের কোনো বিষয় না থাকায় অনেক ব্যবহারকারী ক্রেডিট কার্ডের তুলনায় এটি ব্যবহারে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। পাশাপাশি বৈদেশিক লেনদেনে স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতেও ডেবিট কার্ড অনেকের কাছে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরে বিদেশে ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশিরা মোট ৩৯২ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। আগের মাস নভেম্বরে এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ৩৭৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ১৯ কোটি টাকা বা ৫ শতাংশের বেশি বেড়েছে ডেবিট কার্ডে বৈদেশিক লেনদেন।

Card3
বাংলাদেশে বাড়ছে ক্যাশলেস লেনদেন। ছবি: সংগৃহীত

অন্যদিকে একই সময়ে বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে মোট লেনদেন হয়েছে ৪৯১ কোটি টাকা। আগের মাসে এই পরিমাণ ছিল ৫১১ কোটি টাকা। ফলে এক মাসের ব্যবধানে ক্রেডিট কার্ডে বৈদেশিক লেনদেন কমেছে প্রায় ২০ কোটি টাকা।

দেশভিত্তিক ব্যয়ের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ডেবিট কার্ডে মোট ৩৯২ কোটি টাকার মধ্যে যুক্তরাজ্যেই ব্যয় হয়েছে ৬৩ কোটি টাকা। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ কোটি, ভারতে ৩৬ কোটি, সৌদি আরবে ৩৫ কোটি এবং আয়ারল্যান্ডে ৩১ কোটি টাকা খরচ করেছেন বাংলাদেশিরা।

আরও পড়ুন

ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের পিন কেন ৪ সংখ্যারই হয়?

অন্যদিকে বিদেশে ক্রেডিট কার্ডে মোট ৪৯১ কোটি টাকার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রেই ব্যয় হয়েছে ৬৮ কোটি টাকা। এরপর থাইল্যান্ডে ৬৫ কোটি, যুক্তরাজ্যে ৪৪ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩৮ কোটি এবং ভারতে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা, চিকিৎসা, ভ্রমণ ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক কার্ড লেনদেনের এই প্রবণতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে।

এমআর/জেবি