Dhaka Mail Logo

অর্থনীতি

রাইড শেয়ারের বাইকে তেল নেওয়ার সীমা বাড়ালো বিপিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৩ পিএম

রাইড শেয়ারিং সেবায় নিয়োজিত মোটরসাইকেলের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ লিটার অকটেন বা পেট্রোল সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জনমনে তৈরি হওয়া আতঙ্ক কমাতে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এজন্য কিছু শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিপিসি সচিব শাহিনা সুলতানার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাইড শেয়ারিং সেবায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলগুলোকে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫ লিটার অকটেন বা পেট্রোল সরবরাহ করা যাবে।

এর আগে গত শুক্রবার সাধারণ মোটরসাইকেলের জন্য দৈনিক জ্বালানি সরবরাহের সীমা ২ লিটার নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে রাইড শেয়ারিং চালকদের পেশাগত প্রয়োজন বিবেচনায় চার দিন পর তাদের জন্য এই সীমা বাড়ানো হলো।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, জ্বালানি সংগ্রহের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত মেনে চলতে হবে। ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নেওয়ার সময় মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও চালকের ব্যক্তিগত তথ্য সংশ্লিষ্ট রাইড শেয়ারিং অ্যাপের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে যাচাই করতে হবে।

এ ছাড়া জ্বালানি ক্রয়ের সময় তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে রসিদ গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আবার তেল নিতে হলে আগের ক্রয়ের রসিদের মূল কপি ফিলিং স্টেশনে জমা দিতে হবে। অন্যথায় জ্বালানি সরবরাহ করা হবে না।

জ্বালানি আমদানির বিষয়ে বিপিসি জানিয়েছে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিদেশ থেকে নিয়মিত তেল দেশে আনা হচ্ছে। প্রধান স্থাপনাগুলো থেকে সারাদেশের বিভিন্ন ডিপোতে রেলওয়ে ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে জ্বালানি বিক্রির সীমা নির্ধারণ করে ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারের জন্য ১০ লিটার এবং এসইউভি বা মাইক্রোবাসের জন্য ২০ থেকে ২৫ লিটার অকটেন সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া ডিজেলচালিত বাসের জন্য ৭০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত আলাদা সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর তেল সংকট হতে পারে এমন আশঙ্কায় গত কয়েক দিন ধরে রাজধানীর শাহবাগসহ বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি সংগ্রহে দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। নির্ধারিত সীমার কারণে অনেক চালকের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হলেও বিশেষ করে রাইড শেয়ারিং চালকদের জন্য জ্বালানির সীমা বাড়ানোর দাবি উঠেছিল।

বিপিসি বলছে, রাইড শেয়ারিং অ্যাপের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হলে প্রকৃত পেশাদার চালকরাই এই সুবিধা পাবেন। এতে জ্বালানি খাতে চাপ কমবে এবং কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার সুযোগ কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এমআর/এমআর