images

অর্থনীতি

বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪১ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতায় ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার প্রভাব পড়েছে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে। উৎপাদন ও রফতানি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে বেড়েছে ১ ডলারের বেশি।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৮২ দশমিক ৫৩ ডলারে উঠেছে। চলতি বছরের জানুয়ারির পর যা সর্বোচ্চ। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৭৯ সেন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ দশমিক ৩৭ ডলারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ইরান-জুড়ে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এতে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

এদিকে ইরাক উৎপাদন কমিয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। মজুতের সীমাবদ্ধতা ও রফতানি রুট বন্ধ থাকায় দেশটি দৈনিক প্রায় ১৫ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কমিয়েছে, যা মোট উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কয়েক দিনের মধ্যে উৎপাদন আরও কমে ৩০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত নেমে আসতে পারে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে। এ প্রণালি দিয়ে বিশ্ব তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এবং বিপুল পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ট্যাংকারে হামলার পর টানা চার দিন কার্যত চলাচল ব্যাহত থাকে।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে মার্কিন নৌবাহিনী তেলবাহী জাহাজকে এসকর্ট দেবে। পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক বাণিজ্যের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি বীমা ও আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থার কথাও বলেছেন তিনি। তাতে বাজারে কিছুটা আস্থা ফেরাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তার পরও জাহাজমালিক ও বিশ্লেষকেরা বলছেন, সামরিক সুরক্ষা ও বীমা যথেষ্ট হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে। অনেক দেশ ও কোম্পানি বিকল্প সরবরাহপথ খুঁজছে। ভারত ও ইন্দোনেশিয়া নতুন জ্বালানি উৎসের সন্ধানে নেমেছে। অন্যদিকে চীন–এর কিছু শোধনাগার রক্ষণাবেক্ষণের কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।

সৌদি আরামকো হরমুজ এড়িয়ে লোহিত সাগরপথে কিছু রফতানি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আর আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের তথ্য বলছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত ৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ব্যারেল বেড়েছে, যা বাজারের পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক বেশি। সরকারি পরিসংখ্যান বুধবার প্রকাশিত হওয়ার কথা।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও।

এমআই