নিজস্ব প্রতিবেদক
১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ অর্জন করেছে বলে মনে করছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
তিনি জানিয়েছেন, দেশটির সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি (এআরটি) অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে রফতানি করা ৮৫ থেকে ৮৬ শতাংশ পণ্য শূন্য শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বাজার। এই বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকার প্রথম ধাপে শুল্কহার ৩৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামাতে সক্ষম হয়। পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে তা আরও কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামানো হয়েছে। এরফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর মোট শুল্কহার আগের ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ৩৪ শতাংশে দাঁড়াবে।’
চুক্তির বড় অর্জনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট রফতানির প্রায় ৮৬ শতাংশই তৈরি পোশাক। এরমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত গার্মেন্টস পণ্য শূন্য রেসিপ্রোকাল ট্যারিফে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে।’
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমানে অনেক পোশাক কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি হলেও ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহারে জোর দিলে এই সুবিধার আওতা আরও বাড়বে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তুলা আমদানিকারক দেশ। দেশের গার্মেন্টস শিল্পে ব্যবহৃত তুলার মাত্র ২ শতাংশ দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হয়, বাকি ৯৮ শতাংশই আমদানি নির্ভর।
‘এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের তুলা ব্যবহারে একদিকে যেমন শুল্ক সুবিধা পাওয়া যাবে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতেও তা সহায়ক হবে’, যোগ করেনি বশিরউদ্দীন।
এসময় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশের ছয় বিলিয়ন ডলারের বেশি বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সরকার কাঠামোগত সংস্কার ও আমদানি উদারীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা।
এরআওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য, জ্বালানি পণ্য এবং মেটাল স্ক্র্যাপ আমদানির বিষয় বিবেচনায় রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট রফতানির ৮৫ থেকে ৮৬ শতাংশ পণ্য শূন্য শুল্ক সুবিধা পাবে। তবে বাকি ১৪ থেকে ১৫ শতাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে ১৯ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তিতে একটি সুরক্ষা শর্ত যুক্ত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে উপযুক্ত নোটিশ দিয়ে বাংলাদেশ এই চুক্তি থেকে বের হয়ে আসতে পারবে।’
‘ফলে ভবিষ্যতে কোনো সরকার চাইলে জাতীয় স্বার্থ বিবেচনায় সে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে’, যোগ করেন বশিরউদ্দীন।
সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, চুক্তির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ‘পটেনশিয়াল ট্যারিফ অ্যাডজাস্টমেন্ট ফর পার্টনার কান্ট্রিস’ নামে অতিরিক্ত একটি সুবিধা দিয়েছে। এর আওতায় ‘২ হাজার ৫০০-এর বেশি’ পণ্যে ডিউটি ফ্রি সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ফার্মাসিউটিক্যালস খাত এই সুবিধার সবচেয়ে বড় অংশ পাবে। পাশাপাশি প্লাস্টিক পণ্য, উড়োজাহাজের যন্ত্রপাতি, প্লাইউড বোর্ডসহ আরও বেশ কিছু পণ্য এই তালিকায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। সে সময় বাংলাদেশের ওপর অতিরিক্ত ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা আসে।
এরপর অন্তর্বর্তী সরকার টানা নয় মাসের বেশি সময় ধরে আলোচনা চালিয়ে সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুই দেশের মধ্যে এআরটি চুক্তি স্বাক্ষর করে।
এমআর/এএম