জেলা প্রতিনিধি
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৪ এএম
দেশের অন্যতম ধান-চাল উৎপাদনকারী জেলা নওগাঁয় মাসখানেক আগেই শেষ হয়েছে আমন ধান কাটা-মাড়াই। সেই হিসেবে এখন চালের দাম কমার কথা হলেও গত দুই সপ্তাহে ব্যবধানে পাইকারি বাজারে সরু চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পাইকারিতে দাম বাড়ায় এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। খুচরা বাজারে তিন থেকে চার টাকা দাম বেড়েছে।
এদিকে ভরা মৌসুমে চালের দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্রেতারা সিন্ডিকেটের কারসাজিকে দায়ী করছেন।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত দুই সপ্তাহ ধরেই পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে চাল কিনছেন তারা। ফলে খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। আর চালকল মালিকদের দাবি, মৌসুম শেষ হওয়ায় সরবরাহ কমেছে ধানের। ফলে দাম বেড়েছে। তবে মোটা চালের দাম বাড়েনি।
পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরু চাল হিসেবে পরিচিত জিরাশাইল ও কাটারি জাতের চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে মানভেদে জিরাশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৭২ টাকা এবং কাটারি চাল ৭২ থেকে ৭৪ টাকায়।
অন্যদিকে, খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে জিরাশাইল মানভেদে কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়ে ৭৪ থেকে ৭৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাটারি জাতের চাল মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৭৫ থেকে ৮০ টাকায়। তবে মোটা জাতের চাল আগের দাম ৫০ থেকে ৫২ টাকাই বিক্রি হচ্ছে।
চাল কিনতে আসা আজগর আলী বলেন, আগের তুলনায় সরু চাল কেজিতে ৩ থেকে ৪ টাকা দাম বেড়েছে। এটা খুবই হতাশার ব্যাপার। আমাদের আয় কিন্ত বাড়ে না। শুধু জিনিসপত্রের দাম বাড়ে। এগুলো সব সিন্ডিকেটের কারসাজি। যে সরকারই ক্ষমতায় থাক সাধারণ মানুষের কোনো লাভ নেই।
পৌর ক্ষুদ্র চাল বাজারের লক্ষ্মী চাল ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী উত্তম সরকার বলেন, সরু জাতের চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। পাইকারিতে প্রতি বস্তায় বেশি দাম দিয়ে আমাদের কিনতে হচ্ছে। আমরা খুচরা বিক্রেতারা পাইকারি দাম থেকে সামান্য লাভে বিক্রি করে থাকি। তবে মোটা চালের আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে।
নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, বর্তমানে ইরি-বোরো ধানের চাষ শুরু হয়েছে। মৌসুম শেষ হওয়ায় বাজারে পুরাতন ধানের সরবরাহ কমেছে। তাই চালের দামও পাইকারি বাজারে ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছে।
প্রতিনিধি/টিবি