নিজস্ব প্রতিবেদক
১৪ জুন ২০২৪, ০৭:৫৬ পিএম
ঈদের বাকি আর মাত্র দুই দিন। অথচ হাটে সে অনুপাতে ক্রেতা নেই। যারাও আসছেন, খুঁজছেন কম দামি গরু। ক্রেতা সংকট আর কম দামের যাঁতাকলে আতঙ্ক ব্যাপারীদের মাঝে।
শুক্রবার (১৪ জুন) বিকেলে রাজধানীর গাবতলী ও হাজারীবাগের হাট ঘুরে এসব পাওয়া গেছে।
এদিন সকাল থেকে গাবতলী হাটে নতুন করে যোগ হয়েছে অনেক গরু। যার বেশির ভাগই মাঝারি আকারের। বিক্রেতাদের ভাষ্য, মাঝারি আকারের গরুর চাহিদাই বেশি।
তবে শুক্রবার সকাল থেকে ক্রেতার যে চাপ প্রত্যাশা করেছিলেন বিক্রেতারা সেটার প্রতিফলন ঘটেনি বিকেলেও। হাটজুড়ে গরু থাকলেও ক্রেতা যেন হাতেগোনা।
গাবতলী হাটের পাশে বেড়িবাঁধ সড়ক। এ সড়কে নিয়মিত ইজিবাইক চালান সুমন হোসেন। জীবনের ডজনখানেক কোরবানির ঈদে গাবতলী হাটকে দেখেছেন তিনি। তার ভাষায়, 'হাটে এইবার গরু কম। রাস্তায় পর্যন্ত গরু থাকে। আমরা গাড়ি নিয়া গত বছরও এতদূর আসতে পারি নাই। এইবার তো হাটের ভেতরেও জায়গা খালি।'

সুমনের কথার সত্যতা পাওয়া যায় হাটের ভেতরে ঢুকতেই। গাবতলী হাটের বর্ধিতাংশে গড়ে তোলা গরু বাঁধার বেশির ভাগ জায়গাই ফাঁকা৷
সুইপার কলোনি এলাকায় গরু বাঁধার জন্য যে ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে, তাও অলস পড়ে আছে।
ব্যাপারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাটে ক্রেতা সমাগম একেবারেই কম। কুষ্টিয়া থেকে আগত আজিজুল ব্যাপারী ঢাকা মেইলকে বলেন, '২০টা গরু নিয়া আসছি। এখনো একটাও বিক্রি হয় নাই।'
ক্রেতা সমাগম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'কাস্টমার কম, কিছু কাস্টমার আসে। কিন্তু দাম কম কয়।'

এবারের হাটের চিত্র গত বছরের দৃশ্য মনে করিয়ে দিয়েছে আজিজুলকে। বলেন, 'গত বছরও ২০টা গরু নিয়া আসছিলাম। ১২টাই ঘুরাইয়া নিয়া গেছি। এইবার কী হয় কে জানে!'
শুধু গাবতলী নয়, একই চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর হাজারীবাগের হাটে। বেড়িবাঁধ সড়কের দুই পাশজুড়ে বসা হাটটি বেশ দীর্ঘ। সড়কের পাশে খালি জায়গায় বাঁশ বেঁধে তৈরি করা হয়েছে গরু বাঁধার জায়গা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছে গরুও। তবে ক্রেতার দেখা নেই।
আরও পড়ুন
হাটের ব্যাপারী সাইদুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, 'হাসিল ঘরের দিকে দেখেন ভাই। কোনো মানুষজন নাই। মানুষ গরু কিনলে তো হাসিল দিবো। বিক্রিই নাই। ১১টা গরু নিয়া আসছি। একটাও বিক্রি হয় নাই।'
এ সময় হাটে গরু নিয়ে আসা ব্যাপারীদের অলস সময় পাড় করতে দেখা গেছে।
কারই/জেবি