নিজস্ব প্রতিবেদক
১৮ মার্চ ২০২৪, ০৭:২১ পিএম
এজেন্ট ব্যাংকিং নিয়ে সোনালী ব্যাংক ‘ছলচাতুরি’ করেছে বলে অভিযোগ করেছে সোনালী এজেন্ট ব্যাংকিং এসোসিয়েশন। সোমবার (১৮ মার্চ) প্রধান ব্যাংকটির কার্যালয়ের সামনে সোনালী ব্যাংক নিয়োগকৃত এজেন্টদের ক্ষতিপূরনের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে সোনালী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং এর এজেন্টরা। এসময় বক্তারা এ অভিযোগ করেন।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের অন্যান্য ব্যাংকের ন্যায় সোনালী ব্যাংক পি.এল.সিও এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু করেছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো তাদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ থেকে শুরু করে অদ্যবধি আমাদের মতো উদ্যোক্তা যারা কিনা আশায় বুক বেধেছিল সোনালী এজেন্ট ব্যাংকিং নিয়ে স্বাবলম্বী হবে। কিন্তু সোনালী ব্যাংক শুরু থেকেই বিভিন্ন প্রকার ছলচাতুরির আশ্রয় নিয়ে তাদের যাচাই-বাছাই শেষে ১২০০+ এজেন্ট চূড়ান্ত করেছিল। তারপর এর মধ্য থেকে ৪৭৮ জন এজেন্টকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েও সর্বশেষ ২২৭ জন এজেন্ট চালু করে কোনো ঘোষণা ছাড়াই। বাকি এজেন্ট নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। সোনালী ব্যাংক পি.এল.সি কর্তৃক বিজ্ঞপ্তি প্রাকাশ ২০২০ সাল এর জুলাই পর থেকে আমাদের ঘর ভাড়া নেওয়া ডেকোরেশন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়, যা চালু করার প্রায় দুই বছর আগে থেকে এজন্টেগণকে এসবের ব্যায় বহন করতে হয়।
বক্তারা বলেন, আপনাদেরকে আমরা অবগত করতে চাই যে, বিগত দুই বছর আগে যখন আমাদের এজেন্ট কার্যক্রম শুরু হয় তখন শুধুমাত্র টাকা জমা, উত্তোলন এবং ব্যাক্তিক হিসাব খোলা দিয়ে আমাদের কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তীতে আমরা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলে যে পর্যায়ক্রমে সকল সার্ভিস দেওয়া হবে যা আজ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। অন্যান্য এজেন্ট ব্যাংক সকল হিসাবে লেনদেন করতে পারলেও আমাদের সে সুযোগ দেওয়া হয়নি। যার কারণে আমরা দীর্ঘদিন ধরে দূর্দশার মধ্যে দিয়ে আমাদের জীবন অতিবাহিত করছি।
তারা আরও বলেন, আমাদের এজেন্ট সার্কুলার দেওয়ার সময় যে কমিশন আমাদের জন্য রাখা হয়েছিল সেটিও তারা চুক্তির সময় আমাদের অগোচরে কমিশন লিষ্টটা পাল্টিয়ে আমাদেরকে কম কমিশন এর তালিকা প্রদান করে। আমরা পরবর্তীতে বুঝতে পেরে যখন তাদের কাছে জানতে চাই তারা বলে সবকিছু পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো এজেন্ট চালু করার আজ ২ বছর পরও আমাদের কমিশন সমন্বয় করেনি। আপনাদের অবগতির জন্য জানাতে চাই অধিকাংশ সময়ে আমাদের সার্ভার জটিলতায় আমরা কোনো কাজ করতে পারি না। বর্তমানে আমরা সার্ভার নিয়ে সর্বোচ্চ জটিলতার মধ্যে আছি। দিনের তিনভাগের দুই ভাগ সময়ই আমরা সার্ভারে কোনো কাজ করতে পারি না। তাদেরকে জানালে বলেন ঠিক করা হবে, হচ্ছে বলে সময় ক্ষেপণ করে।
বক্তারা আরও বলেন, সোনালী ব্যাংক তারপর থেকেই আমরা যখন কমিশন বৃদ্ধি এবং সার্ভিস জটিলতা কমানো ও সার্ভিসের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন সময়ে স্মারকলিপি প্রদান করি। বর্তমান এমডি, চেয়ারম্যান, ও ডিএমডিগণকে সোনালী এজেন্ট ব্যাংকিং এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে তখন তারা আমাদের আশ্বস্ত করলেও কোনো ফলাফল পাইনি। আমরা বিগত এক বছর যাবত সোনালী ব্যাংকের কাছে বারবার দাবি দাওয়া পেশ করলেও তারা আমাদেরকে কোনো সার্ভিস না দিয়েই বলে দেওয়া হবে দিচ্ছি বলে ঘোরাতে থাকে। এবং সার্ভার সমস্যা প্রতিনিয়ত লেগেই থাকে। যার ফলে আমরা প্রতিনিয়ত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। সর্বশেষ তারা আমাদের ডিপিএস ও আরটিজিএস প্রদান করলেও বিগত চার মাস যাবত ডিপিএস এবং একাউন্ট খোলা বন্ধ রয়েছে। আমরা মনে করি কখনোই একটা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সার্ভার সমস্যা এতটা স্থায়ী হতে পারে না। এখন আমাদের মনে হচ্ছে তারা পরিকল্পিতভাবেই আমাদেরকে তাড়ানোর পাঁয়তারা শুরু করেছে। এজেন্টগণ ইতোমধ্যে তাদের পুঁজি হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। আমরা সোনালী ব্যাংকের কাছে বাংলাদেশ ব্যাংক এর কাছে ও অর্থ মন্ত্রণালয় এ অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার না পেয়ে আপনাদের সামনে আজকে আসতে বাধ্য হয়েছি। আমরা আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমাদের এই দুর্দশার কথা তুলে ধরতে এসেছি।
টিএই/এমএইচএম