জেলা প্রতিনিধি
০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী রেঞ্জের আওতাধীন তিনটি বন বিটের কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা টানা পাঁচ মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে ওই বনগুলো পাহারার দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যরা।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, লাউয়াছড়া বনের ব্যবস্থাপনা কমিটিকে অবৈধ উল্লেখ করে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম সিপিজি সদস্যদের ভাতার অর্থ ছাড় করছেন না। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে সিপিজি সদস্যদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরাও তাদের প্রাপ্য বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জানা গেছে, শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী রেঞ্জের আওতাধীন লাউয়াছড়া, কালাছড়া ও চাউতলী বন বিটে মোট ৪০ জন কমিউনিটি পেট্রোলিং গ্রুপের সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের মধ্যে ১০ জন নারী ও ৩০ জন পুরুষ। তারা রোস্টার অনুযায়ী দিনে ও রাতে বন পাহারা দেন। বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এসব সদস্যের প্রত্যেককে দৈনিক ৩০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, লাউয়াছড়াসহ ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় কয়েক মাসের বেতন আটকা পড়েছে। কিছু দিনের মধ্যে নতুন কমিটি আসবে। তারা টাকা পরিশোধ করবেন। নতুন অর্থবছর শুরু হওয়ায় কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
তবে গত পাঁচ মাস ধরে তাদের ভাতা বন্ধ রয়েছে। পারিশ্রমিক না পেলেও দায়িত্ব পালন বন্ধ করেননি সদস্যরা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আয় বন্ধ থাকায় তাদের জীবনযাপন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানদের লেখাপড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে গিয়ে অনেকে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি আর্থিক অনিশ্চয়তা ও হতাশায় দিন কাটছে তাদের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিপিজি সদস্যদের ভাতা বন্ধ থাকার পেছনে লাউয়াছড়া বন ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে জটিলতার বিষয়টি সামনে এসেছে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম কমিটিকে অবৈধ বলে উল্লেখ করায় ভাতার অর্থ ছাড় হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কমিটির বৈধতা নিয়ে কী ধরনের প্রশাসনিক বা আইনগত জটিলতা রয়েছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভাতা বন্ধ থাকার বিষয়ে লাউয়াছড়া বনাঞ্চলের সিপিজি সদস্যরা অভিযোগ করেন, চলতি বছরের জুন থেকে তারা ভাতা পাচ্ছেন না। কবে প্রাপ্য অর্থ পাওয়া যাবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। তাই দ্রুত বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সিপিজি সদস্য বাবুল মিয়া বলেন, আকস্মিক এই সংকটে ধারদেনা করে সংসার চালাতে গিয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
সদস্য সুনীল ও অরুন কাহার বলেন, বেতনের অভাবে দুর্গাপূজা অত্যন্ত কষ্টের মধ্য দিয়ে পার করতে হয়েছে। সামনের দিনগুলোতে কীভাবে চলবেন সেই দুশ্চিন্তায় তারা এখন মহাবিপাকে আছেন।
শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল ইসলাম বলেন, লাউয়াছড়াসহ বিভিন্ন ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তাদের বেতন পেতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। কিছু দিনের মধ্যে নতুন কমিটি আসবে। ইতোমধ্যে তাদের বেতন পরিশোধের জন্য প্রক্রিয়ায় আছে। অতীতেও কয়েক মাসের বেতন আটকা পড়েছিল পরে একসঙ্গে টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. আবুল কালামের মোবাইলে কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে অভিযোগ এবং ভাতা বন্ধ থাকার কারণ সম্পর্কে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রতিনিধি/এফএ