জেলা প্রতিনিধি
০১ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:০২ এএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট কলেজে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার ফলাফলে ধারাবাহিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। টানা তিন বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। এমন ফলাফলে কলেজটির শিক্ষার মান, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ভোলাহাট কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে মাত্র একজন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তবে ওই শিক্ষার্থীও অকৃতকার্য হওয়ায় এ বছর কলেজটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে শূন্য শতাংশে।
কলেজটির বিগত কয়েক বছরের ফলাফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় দুটি বিভাগ থেকে মোট পাঁচজন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাদের মধ্যে মানবিক বিভাগের চারজনের তিনজনই অকৃতকার্য হন। ওই সময় মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থীর বিপরীতে কলেজটিতে নিয়মিত ১৭ জন শিক্ষক কর্মরত ছিলেন।
এরপর ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পাশাপাশি সর্বশেষ ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষাতেও কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। টানা তিন বছর এমন ফলাফলে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভোলাহাট কলেজের অধ্যক্ষ মাসুদ রানার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন। চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাহীন সুলতানা বলেন, “একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ফল বিপর্যয় অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরিন জানান, যেসব কলেজে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হবে। কেন এমন ফল বিপর্যয় ঘটেছে, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যাও চাওয়া হবে।
প্রতিনিধি/এসএস