Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

সাদুল্লাপুরে ইউপি সদস্যদের ভাতা ও ভিডব্লিউবি চাল আটকে রাখার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি

৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৬ পিএম

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ছয় নম্বর ধাপেরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম শিপনের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের সম্মানী ভাতা বন্ধ রাখা এবং গেল জুলাই মাসের ভিডব্লিউবি চাল বিতরণ না করার অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে গত ১৮ অক্টোরবর ইউএনও এবং মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন পরিষদের কয়েকজন সদস্য। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভুক্তভোগীদের মাঝে।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল কবিরের মৃত্যুর পর ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে মো. শহিদুল ইসলাম শিপন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর থেকে পরিষদের সদস্যদের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

একাধিক সদস্যদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহণের পর তাদের সম্মানী ভাতা বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া সরকারি বরাদ্দ ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিতরণের ক্ষেত্রেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো সমাধান পাননি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি সমাধানের জন্য তারা একাধিকবার উদ্যোগ নিয়েছেন। কিন্তু তাতেও প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায়নি। এ অবস্থায়  উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

ভিডব্লিউবি কর্মসূচির ৪ নম্বর কার্ডধারী রত্না বেগমের স্বামী ছবদেল মিয়া বলেন, সরকারিভাবে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল পেয়ে আসছেন তারা। তবে গত জুলাই মাসের চাল এখনো পাননি। এ বিষয়ে পরিষদে জানিয়েও কোনো সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই অভিযোগ করেন কার্ডধারী আম্বিয়া ও ছালমা বেগম।

তারা আরও বলেন, সর্বশেষ গত বুধবার বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী বকেয়া চালের দাবিতে ইউএনও কার্যালয়ে যান। তবে কার্যালয়ের কর্মচারীরা ইউএনওর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেননি বলে অভিযোগ করেন তারা।

ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য মোছা. রওশন আক্তার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান আমাদের সম্মানী ভাতা দিচ্ছেন না। একই সঙ্গে পরিষদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছি। এ ছাড়া গত জুলাই মাসের ভিডব্লিউবি কর্মসূচির চালও উপকারভোগীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়নি। এ নিয়ে কার্ডধারীরা চরম উদ্বেগে রয়েছেন। এসব বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাইনি। 

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম শিপন অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আপনি সশরীরে ইউনিয়ন পরিষদে এসে যাচাই করুন। 

এদিকে, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা (অতিরিক্ত) মোছা. ফারজানা ইয়াসমিন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রওজাতুন জান্নাত বলেন, অভিযোগটি কবে দেওয়া হয়েছে, তা আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।