জেলা প্রতিনিধি
২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৬ এএম
মাগুরার শালিখায় বিএনপি নেতা মশিয়ার রহমান হত্যা মামলায় পুলিশের সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথ ও এসআই ইসমাইল হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মাগুরার শালিখা আমলি আদালতে হাজির করা হলে বিচারক বর্ণালী রানী তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এর আগে, মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাতে বরিশাল নৌ-পুলিশে কর্মরত অবস্থায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারা শালিখা উপজেলার বিএনপি নেতা মশিয়ার রহমান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান জানান, মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শালিখা উপজেলার শতখালী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি ও ছয়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মশিয়ার রহমানকে তার বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যান তৎকালীন শালিখা থানার ওসি বিপ্লব কুমার নাথ ও এসআই ইসমাইল হোসেন। পরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডকে সে সময় ‘ক্রসফায়ার’ হিসেবে দেখিয়ে শালিখা থানায় একটি মামলা করা হয়েছিল।
নিহত মশিয়ার রহমানের স্ত্রী হাসিনা বেগম বাদী হয়ে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আদালতে হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথ ও এসআই ইসমাইল হোসেনসহ বেশ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
আদালত মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নিতে শালিখা থানাকে নির্দেশ দেন। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের কাছ থেকে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সেসব তথ্যের বিস্তারিত প্রকাশ করেননি তিনি।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্র থেকে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মাগুরা, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ ও মেহেরপুরসহ বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালনকালে এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতাকর্মীকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা এবং ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে তারা কয়েকশ কোটি টাকার বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, সাবেক ওসি বিপ্লব কুমার নাথ যশোর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথের জামাতা।
মশিয়ার রহমান হত্যা মামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার ও কারাগারে পাঠানোর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন আগের এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন অগ্রগতি হয়েছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রতিনিধি/এসআই