Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

যশোরে প্রভাতী ট্রেনের দাবিতে প্রতীকী অবরোধ, এক মাসের আল্টিমেটাম

জেলা প্রতিনিধি

২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৭ পিএম

যশোর থেকে ঢাকায় প্রভাতী আন্তঃনগর ট্রেন চালুসহ ছয় দফা দাবিতে আবারও আন্দোলনে নেমেছেন যশোরবাসী। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে যশোর কালেক্টরেট চত্বরে প্রতীকী রেল অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি। কর্মসূচি থেকে এক মাসের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে যশোর জংশন অবরোধ করে রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

প্রতীকী অবরোধ কর্মসূচিতে কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় হকি কোচ কাওসার আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন প্রবীণ রাজনীতিক হাসিনুর রহমান, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সিপিবি যশোরের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মজনু, শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু, রেল আন্দোলনের নেতা আমিনুর রহমান হিরু ও তসলিমুর রহমান, পূজা উদযাপন পরিষদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম, বাম নেতা আহসান উল্লাহ ময়না, রেল আন্দোলনের নেতা সাঈদ আহমেদ নাসির শেফার্ড, কোটচাঁদপুরের আন্দোলনের নেতা মনিরুজ্জামান ও নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্যসচিব প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলেন, শুরু থেকেই যশোরবাসীর দাবি—ভোরে যশোর থেকে ঢাকাগামী একটি ‘প্রভাতী ট্রেন’ চালু করা হোক। এতে সাধারণ মানুষ সকালে বাড়ি থেকে রওনা দিয়ে ঢাকায় পৌঁছে অফিস বা প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে পারবেন। একইভাবে সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে যশোরের উদ্দেশে ফিরতি ট্রেন চালু করা হলে কাজ শেষে মানুষ বাড়ি ফিরতে পারবেন।

তিনি বলেন, বেনাপোল, যশোর, মোবারকগঞ্জ ও কোটচাঁদপুর থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ঢাকায় যাতায়াত করেন। এ রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো হলে বাংলাদেশ রেলওয়ে তথা সরকার আর্থিকভাবে লাভবান হবে। রেল যোগাযোগ নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এর উন্নয়ন যাত্রীদের পাশাপাশি অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুন

বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ফিরলেন দম্পতি ও তাদের দুই বছরের শিশু

কর্মসূচিতে প্রকৌশলী রুহুল আমিন ছয় দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো—অবিলম্বে বেনাপোল–যশোর–ঢাকা ও দর্শনা–যশোর–ঢাকা রুটে প্রভাতী আন্তঃনগর ট্রেন চালু; সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের সুবিধার্থে সব আন্তঃনগর ট্রেনে পর্যাপ্ত সাধারণ বগি সংযোজন; দর্শনা–খুলনা ও বেনাপোল–যশোর রুটে দ্রুত দ্বৈত রেললাইন স্থাপন; ট্রেনের সাধারণ শ্রেণির ভাড়া বাসভাড়ার চেয়ে কম রাখা; নিবন্ধনের বাইরে টিকিট কেনার ব্যবস্থা এবং প্রবীণ নাগরিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিকল্প টিকিটপ্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করা; এবং আন্তঃনগর ট্রেনে কৃষিপণ্য, ফুল, সবজি ও মাছ পরিবহনের জন্য বগি সংযোজন।

রুহুল আমিন আরও বলেন, ২০২৩ সাল থেকে তারা এসব দাবিতে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন করে আসছেন। এ সময় রেলমন্ত্রী, রেলসচিব, রেলওয়ের মহাপরিচালক, প্রধানমন্ত্রী এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। রেলসচিব ও মহাপরিচালকের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি একাধিকবার মানববন্ধন, বিক্ষোভ, দুবার রেল অবরোধ, কালো পতাকা প্রদর্শন এবং রেলওয়ের মহাপরিচালককে অবরুদ্ধ করার মতো কর্মসূচিও পালন করেছেন তারা।

আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রেলসচিব ও মহাপরিচালক ২০২৬ সালের মার্চ–এপ্রিলের মধ্যে আরও একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর বিষয়ে আশ্বস্ত করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। কিন্তু অক্টোবর মাস পেরিয়ে গেলেও প্রভাতী ট্রেন চালুর কোনো ঘোষণা আসেনি। অথচ ভারত থেকে ট্রেনের রেক এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রুহুল আমিন বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে প্রভাতী ট্রেন চালুর ঘোষণা না এলে যশোর জংশন অবরোধ করে রেল চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন তারা।

প্রতীকী অবরোধ শেষে যশোরের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রেলমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয় বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি। জেলা প্রশাসক মো. আশেক হাসান স্মারকলিপি গ্রহণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

প্রতিনিধি/এসএস