জেলা প্রতিনিধি
২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার বালিয়ান ইউনিয়নের মণ্ডল বাড়ি গ্রামে আখিলা নদী খনন করার সময় একটি পাকা সেতু নদীর মাঝখানে রেখে দুই তীর খনন করা হয়। বর্ষায় নদীর তীব্র স্রোতে ২ বছর আগে সেতুর দুই পাশের মাটি সরে যায়। এখন সড়কবিহীন নদীর মাঝখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে সেতুটি। সাময়িকভাবে চলাচলের জন্য পাকা সেতুর পাশ দিয়ে সুপারি গাছের ফালা দিয়ে সাঁকো তৈরি করে নদী পারাপার হচ্ছে।
সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় সেতুর এপার-ওপারের ৯ গ্রামের মানুষের যাতায়াতে দুর্ভোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে বেড়েছে ভোগান্তি।
এলাকাবাসী জানায়, ফুলবাড়ীয়া ও মুক্তাগাছার সীমানায় আখিলা নদীর ওপর সেতুটি ২০১০- ২০১১ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১২ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। দুই অঞ্চলের মধ্যে সংযোগ তৈরি করতে নির্মাণ করা হয়েছিল একটি সেতু। তবে দুই বছর আগে ভেঙে গেছে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সেতুটি মুক্তাগাছা উপজেলার খেরুয়াজানী ইউনিয়নের মানিকপুর গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ড আখিলা ও আয়মন নদীর প্রায় ৪২ কিলোমিটার অংশ পুনর্খনন করে। এরপর বর্ষায় পানির তীব্র স্রোতে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে যায়। সেতুর পশ্চিম পাশে ১২ থেকে ১৫ ফুট এবং পূর্ব পাশে অন্তত ৫ ফুট সড়ক নদীতে বিলীন হয়েছে। সেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় এতে ফাটলও দেখা দিয়েছে।
সেতুটি ব্যবহার করে ফুলবাড়িয়ার মণ্ডলবাড়ি, উজলহাটি, চক গড়বাজাইল, চামারবাজাইল ও দেওলি এবং মুক্তাগাছার মানিকপুর, রমেশবাড়ি, মহেরবাড়ি ও বাইন্নাবাড়ি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করতেন। এখন তাদের বিকল্প পথে প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন
মুক্তাগাছা উপজেলা সদর, কালীবাড়ি, বাংলাবাজারসহ বিভিন্ন বাজারে যাতায়াত করতে বাড়তি সময় ও পরিবহন ভাড়া লাগছে। কৃষিপণ্য, মাছ, মুরগি ও ডিম বাজারে নিতে গিয়ে কৃষক এবং খামারিদের পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক জানান, সেতুটি দিয়ে আগে ছোট-বড় অনেক যানবাহন চলাচল করত। ভাঙনের পর কয়েক মাস বাঁশের সাঁকো তৈরি করে মানুষ চলাচল করেছে। পরে ভাঙন আরও বাড়ায় সেই ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে যায়।
শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুরাইয়া মকসুদা স্থানীয়দের সহযোগিতায় নদীর ওপর সুপারিগাছ দিয়ে একটি সরু সাঁকো তৈরি করে দিয়েছেন। সেই সাঁকো পার হয়েই শিশুরা বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। তবে বৃষ্টিতে নদীর পানি বাড়লে সাঁকো পার হওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রধান শিক্ষক সুরাইয়া মকসুদার জানান, সেতু ভেঙে যাওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসতে পারছিল না। শিশুদের পড়াশোনার কথা বিবেচনা করে নিজের টাকায় সাধ্য অনুযায়ী সাঁকোটি তৈরি করে দিয়েছেন তিনি। তবে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর ওপর শিশুদের চলাচল এবং সেখানে তাদের খেলাধুলা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সাইদুল হক জানান, আয়মন (আখিলা) নদী পুনর্খননের পর পানির স্রোতে সেতুর দুই পাশে ভাঙন দেখা দেয়। বর্তমান অবস্থায় সেতুটি মেরামত করলেও নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করা কঠিন হবে। তাই নতুন সেতু নির্মাণ প্রয়োজন। নদী পুনর্খননের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় সেতুটি আগের চেয়ে বড় করে নির্মাণ করতে হবে। এ জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ জোবায়ের হোসেনের জানান, সেতুটির বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তবে সেতুটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের মাধ্যমে নির্মিত হয়েছিল। এ কারণে বিষয়টি তাদের দপ্তরের সরাসরি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। তারপরও তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
প্রতিনিধি/এলএ