Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

ফেনীতে চালককে কুপিয়ে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাই

জেলা প্রতিনিধি

২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

ফেনীর ছাগলনাইয়ায় যাত্রীবেশে অটোরিকশায় উঠে চালক আবদুল হককে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পাঠাননগর ইউনিয়নের বাংলা বাজার সংলগ্ন একটি সড়কে এই ঘটনা ঘটে।

পরে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চালকের মৃত্যু হয়।

নিহত আবদুল হক উপজেলার মাটিয়াগোদা গ্রামের মৃত ওসমান হাওলাদারের ছেলে।

তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে সংসার চালাতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি।

ফেনী ছাগলনাইয়ায়ে চালককে কুপিয়ে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।
ফেনী ছাগলনাইয়ায়ে চালককে কুপিয়ে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের চাঁদগাজী বাজার থেকে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি যাত্রী সেজে আবদুল হকের অটোরিকশাটি ভাড়া করেন। 

তাদের গন্তব্য ছিল পাঠাননগর বাজার। পথে বাংলা বাজার সংলগ্ন নির্জন সড়কে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে সড়কের পাশে তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে ছাগলনাইয়া থানার এএসআই জেকসন বড়ুয়া ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করেন। 

প্রথমে ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে চমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ছাগলনাইয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের বলেন, ‘নিহতের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর জখম ছিল। যাত্রীবেশে উঠে ছিনতাইকারীরা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।’

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে বিভিন্ন সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে অটোরিকশাটি কিনেছিলেন আবদুল হক। সেটি চালিয়েই পরিবারের ভরণপোষণ চালাতেন তিনি।

তাঁর স্ত্রীর দাবি, কারও সঙ্গে তাঁর স্বামীর শত্রুতা ছিল না। ঋণ করে কেনা অটোরিকশাটিই ছিল তাঁদের পরিবারের একমাত্র আয়ের অবলম্বন। স্বামীকে হারিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি।

এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্ত্রী।

প্রতিনিধি/এএম