জেলা প্রতিনিধি
২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
মাদারীপুরে ১৬ মাস ধরে চরম খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে এক হাজার বানরের। এতে লোকালয়ে বেড়েছে উৎপাত। প্রতিনিয়তই বাসাবাড়িতেও হামলা করছে গেছো এই প্রাণীগুলো। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় কমেছে এর সংখ্যাও। ভারসাম্য রক্ষায় বানরগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার আহ্বান স্থানীয়দের। সামাজিক বন কর্মকর্তা জানান, বানরের খাবারের বরাদ্দ চাওয়া হলেও দেখছে না আলোর মুখ।
জানা যায়, যে বানর থাকার কথা অভয়ারণ্যে, সেই গেছো প্রাণী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ছে লোকালয়ে। খাবারের সন্ধানে কখনও ফল গাছে, আবার কখনও বা ঘরের চালে। সকাল থেকে বিকেল, এভাবেই দল বেঁধে ঘুরে বেড়াচ্ছে তারা। পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ায় বাসা-বাড়িতেও দিচ্ছে হানা। বানরের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ বাসিন্দারা।
তথ্য বলছে, মাদারীপুরের নয়াচর ও চরমুগরিয়া এলাকায় এক সময় বানরের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। একদিকে খাদ্য সংকট, অন্যদিকে ঘনবসতি দুই কারণেই কমে গেছে বানরের সংখ্যা। সরকারিভাবে এই প্রাণীর জন্য খাবার বরাদ্দ থাকলেও তা বন্ধ ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে। এমন অবস্থায় পশুপ্রিয় কেউ কেউ ব্যক্তিগতভাবে সাধ্যমতো দিচ্ছে খাবার। তাও অপ্রতুল হওয়ায় মানুষের ওপর বেড়েছে উৎপাত। ক্ষুধার জ্বালায় খাবারের খোঁজে ১৬ মাস ধরে বিরক্তির কারণ হয়ে উঠেছে বানরের দল।

সামাজিক বন বিভাগ জানায়, মাদারীপুর পৌরসভার চরমুগরিয়ার কালিবাড়ি, স্বর্ণকারপট্টি, জেটিসি, আদমজী, চৌরাস্তা, নদীর পাড় ও কুলপদ্বীসহ বিভিন্ন এলাকায় এক সময়ে ৮ হাজার বানর থাকলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজারে। এদিকে, সরকারিভাবে বানরের পর্যাপ্ত খাবার সরবরাহের দাবি জানিয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই প্রাণীকে টিকিয়ে রাখার আহ্বান স্থানীয় পরিবেশভিক্তিক সংগঠনের নেতাদের।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বানর খাবার না পাওয়ায় আমাদের ওপর আক্রমণ করছে। দিন দিন এর উৎপাত বেড়েই চলছে। আমরা এর প্রতিকার চাই।’
নতুন শহরের ছাপাখানার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বানর এখন বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। বানরের যন্ত্রণায় আমরা অতিষ্ঠ। ঘরে ও বাহিরের খাবার দেখলেই হানা দেয়। খাবার ছিনিয়ে নেয় বানরের দল।’
মাদারীপুরের পরিবেশভিত্তিক সংগঠন ফ্রেন্ডস অব নেচার’র নির্বাহী পরিচালক রাজন মাহমুদ বলেন, ‘দিনে দিনে বানরের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এই প্রাণী খুবই প্রয়োজন। কিন্তু এটি বোঝার কোনো মানুষ সমাজে নেই। সরকারিভাবেও দেখভাল করছে না কেউ। সরকারের কাছে দাবি বিলুপ্ত হতে যাওয়া গেছো প্রাণীগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার।’

সামাজিক বন বিভাগ মাদারীপুরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম খান জানান, মাদারীপুর অফিস থেকে শুধু বার বার চিঠি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো বরাদ্দই আসছে না। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যাতে নজরে আসে সেক্ষেত্রে আবারও লিখিত ও মৌখিক বলা হবে। বানরের খাবারের বরাদ্দ আসলে তা দ্রুতই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করে যথাযথভাবে দেওয়া হবে।’
প্রতিনিধি/এসআই