শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

১০ কোটি টাকার ব্রিজে উঠতে বাঁশের সাঁকোই ভরসা, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

ফরমান শেখ, টাঙ্গাইল
প্রকাশিত: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

শেয়ার করুন:

১০ কোটি টাকার ব্রিজে উঠতে বাঁশের সাঁকোই ভরসা, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে কামারপাড়া নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ের সেতুর কাজ ছয় বছরেও পুরোপুরি শেষ হয়নি। সেতুর রেলিংয়ের কাজ বাকি থাকার পাশাপাশি সংযোগ সড়ক নির্মাণেও চলছে ধীরগতি। ভূমিসংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার পর সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হলেও ১৫ মাসে শেষ হয়নি অর্ধেক কাজ। ফলে সেতুতে উঠতে এখনো বাঁশের সাঁকো ও ঝুঁকিপূর্ণ ঢালু পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। অনেকে নদী পারাপার হচ্ছেন খেয়া নৌকায়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া নদীর ওপর ৯০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সেতুটির নির্মাণকাজ চলে। তবে এখনো সেতুর রেলিং বসানোর কাজ বাকি রয়েছে। এরপর ভূমিসংক্রান্ত জটিলতার কারণে সংযোগ সড়ক নির্মাণেও বাধার সৃষ্টি হয়।

২০২৫ সালের জুনে সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে ১৫ মাস পেরিয়ে গেলেও কাজের অর্ধেক শেষ হয়নি। সেতুর উত্তর পাশে কিছু মাটি ফেলে সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ পাশে কাঁচা রাস্তা থেকে সেতুতে ওঠার জন্য তৈরি করা হয়েছে বাঁশের সাঁকো। এ সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে সেতুতে উঠছেন কেউ কেউ। আবার অনেকে নদী পার হচ্ছেন খেয়া নৌকায়।

2a72a147-aa3b-4129-8b0f-1ae9bd1f8d50

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেতু ও সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজে গতি নেই। এক দিন কাজ হলে পরের সাত দিন বন্ধ থাকে। রাস্তা থেকে প্রায় ৫০ ফুট দীর্ঘ আঁকাবাঁকা ও ঢালু পথ পেরিয়ে সেতুতে উঠতে হয়। ছয় বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় কবে নাগাদ পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তারা।

কামারপাড়া গ্রামের মজিবর রহমান বলেন, ‘আমার বয়স সত্তর ছুঁয়েছে। অনেক ইচ্ছা ছিল এই সেতুর ওপর দিয়ে হেঁটে বাজারে যাব। কাজের যে অবস্থা, তাতে সেই আশা পূরণ হবে কি না, আল্লাহ জানেন। কর্তৃপক্ষের এদিকে নজর দেওয়া উচিত।’

আরও পড়ুন

৫৫ বছরেও পাকা হয়নি রাস্তা, দুর্ভোগে কালীগঞ্জের ১০ গ্রামের মানুষ

একই গ্রামের আবজাল হোসেন বলেন, ‘মির্জাপুর-ধানতারা ভায়া কামারপাড়া আঞ্চলিক সড়কটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ। কামারপাড়া নদীর ওপর সেতুটি সম্পূর্ণ হলে মির্জাপুর থেকে ধামরাই হয়ে সরাসরি ঢাকা যাওয়া সম্ভব হবে। মির্জাপুরের সঙ্গে ধামরাই ও মানিকগঞ্জের যোগাযোগ সহজ হবে। দক্ষিণ মির্জাপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, সেতুটি সম্পূর্ণ করে মির্জাপুর-কামারপাড়া ও ধানতারা সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হোক। এ ছাড়া মির্জাপুর থেকে ঢাকা যাওয়ার বিকল্প পথ হিসেবেও সড়কটি ব্যবহৃত হবে।’

ভাওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বলেন, সেতুর নির্মাণকাজে অনেক সময় লেগেছে। সংযোগ সড়ক নির্মাণের সময় ভূমিসংক্রান্ত জটিলতায় দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ ছিল। বিষয়টি মামলা পর্যন্ত গড়িয়েছিল। পরে তিনি ঠিকাদার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে একাধিকবার বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করেন। তিনি বলেন, ‘এখন কাজ চলছে, তবে কাজের গতি আরও বাড়ানো দরকার।’

1cf62949-73c1-46da-bc3a-60323a371954

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস অ্যান্ড ব্রাদার্সের অংশীদার মোহাম্মদ ইসলাম বলেন, সেতু নির্মাণে অনেক বেশি সময় লেগেছে। এরপরও কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। সংযোগ সড়ক নির্মাণ কিছুটা জটিল। জায়গা নিয়ে সমস্যাও ছিল, যা সমাধানে সময় লেগেছে। দীর্ঘ সময় বৃষ্টিও ছিল। তিনি বলেন, ‘কাজ শেষ করার জন্য আমাদের আগামী জুন পর্যন্ত সময় আছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে পারব বলে আশা করছি।’

মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলী জালাল উদ্দিন বলেন, তিনি সম্প্রতি মির্জাপুরে যোগ দিয়েছেন। যোগদানের পর গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর দিকে নজর দিয়েছেন। কামারপাড়া সেতুর বাকি কাজ ও সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সব জটিলতা নিরসন হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজটি সম্পূর্ণ হবে।’

প্রতিনিধি/এসএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর