জেলা প্রতিনিধি
২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
পরিবহন ভাড়া নিয়ে ঠিকাদার ও শ্রমিকদের বিরোধের জেরে পাঁচ দিন ধরে নারায়ণগঞ্জ সাইলো থেকে চাল-গমসহ সরকারি খাদ্যশস্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। এতে সরকারি খাদ্য সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জ্বালানি ও গাড়ি পরিচালনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় খাদ্যশস্য পরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন শ্রমিকেরা। অন্যদিকে সরকারি দরপত্রে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে রাজি নন ঠিকাদারেরা। এ নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধের জেরে পরিবহন কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
শ্রমিকদের দাবি, জ্বালানি ও গাড়ি পরিচালনার অন্যান্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান ভাড়ায় খাদ্যশস্য পরিবহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে তারা ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত পরিবহনকাজে অংশ নিতে অনীহা প্রকাশ করছেন তারা।
বাংলাদেশ আন্তঃজেলা ট্রাক-কাভার্ডভ্যান ও মিনি ট্রাক চালক শ্রমিক ইউনিয়নের সাইলো শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদ হাসান লিপু বলেন, ‘জ্বালানি ও পরিবহন পরিচালনার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বর্তমান ভাড়ায় গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা যৌক্তিকভাবে ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছি। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে সাইলো থেকে খাদ্যশস্য পরিবহন স্বাভাবিক করা হোক।’
অন্যদিকে ঠিকাদারদের বক্তব্য, সরকারি দরপত্রে নির্ধারিত দর ও বাজেটের বাইরে অতিরিক্ত ভাড়া দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। দুই পক্ষের এ বিরোধে পরিবহন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
কেন্দ্রীয় খাদ্য সরবরাহ ঠিকাদার সমিতির সভাপতি ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. আব্দুল হাই রাজু বলেন, ‘একটি কুচক্রী মহল পরিবহন শ্রমিকদের উসকানি দিয়ে সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে আমরা মনে করছি। গত পাঁচ দিন ধরে সাইলো থেকে চাল-গমসহ জরুরি খাদ্যপণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। এতে সরকারি খাদ্য সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাইলো ও বিশ্ব খাদ্য গুদাম সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। এখান থেকে খাদ্যশস্য সরবরাহ বন্ধ রাখা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা মনে করি, অসৎ উদ্দেশে একটি মহল এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ব্যাহত করার চেষ্টা করছে। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং খাদ্যশস্য পরিবহন স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সাইলো অধীক্ষক রিয়াজুল আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের তার কার্যালয়ে গিয়ে বক্তব্য নিতে বলেন। পরে তার কার্যালয়ে গিয়ে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। একপর্যায়ে ফোন রিসিভ করে ব্যস্ততার কথা জানিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের সরবরাহ কার্যক্রম এখনো বন্ধ আছে। তবে ঠিকাদাররা বাইরে থেকে পরিবহন এনে সরবরাহ কার্যক্রম চালু রেখেছে। শ্রমিকদের দাবি, ঠিকাদাররা তাদের এজেন্টের মাধ্যমে গাড়ি নেবেন। অন্যদিকে ঠিকাদারদের বক্তব্য, বাইরে কম ভাড়ায় গাড়ি পাওয়া গেলে এজেন্টের কাছ থেকে গাড়ি নেওয়ার প্রয়োজন কী? বাইরে থেকে অন্য গাড়ি স্বাভাবিকভাবেই ঢুকতে পারছে, কেউ বাধা দিচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।’
পাঁচ দিনের এ অচলাবস্থা নিরসনে, শ্রমিক ও ঠিকাদারদের মধ্যে সমঝোতা এবং খাদ্যশস্য পরিবহন কার্যক্রম পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রতিনিধি/এসএস