গোপালগঞ্জে পাটের ভালো ফলনের পাশাপাশি বেড়েছে দাম। জেলার হাটবাজারে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৭০০ থেকে ৫ হাজার ৩০০ টাকায়। গত বছরের তুলনায় এবার মণপ্রতি ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা বেশি দাম পাওয়ায় খুশি কৃষকেরা। পাটকল ও মজুদদারদের কেনাকাটা বাড়ায় জমে উঠেছে পাটের বাজার।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে গোপালগঞ্জের পাঁচ উপজেলায় ২৫ হাজার ৬৮৬ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। উৎপাদিত হয়েছে ৫২ হাজার ৬৫৬ টন পাট। এতে আবাদ ও উৎপাদন—দুই ক্ষেত্রেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে জেলা। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮২৭ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদন বেড়েছে ১ হাজার ৬৯৬ টন।
কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া বাজারে বেড়েছে পাটের কেনাবেচা। বাজারের আড়তদার শামীম শেখ বলেন, মৌসুমের শুরুতে পাটকলগুলো পাট কেনা ও দাম পরিশোধ বন্ধ রাখে। একই সময়ে মজুদদারদের আগ্রহ কমে যাওয়ায় তিন দফায় পাটের দাম কমে প্রতি মণ ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায় নেমেছিল। বর্তমানে পাটকল ও মজুদদারেরা প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ৭০০ থেকে ৫ হাজার ৩০০ টাকায় কিনছেন। এতে বাজারে পাটের সরবরাহ ও বেচাকেনা বেড়েছে।
আড়তদার আলীয়ার রহমান বলেন, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও নড়াইল জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় ভাটিয়াপাড়া বাজারের অবস্থান। নৌ, রেল ও সড়কপথে যোগাযোগের সুবিধা থাকায় তিন জেলার পাট এখানে আসে। দাম বাড়ায় বাজারে পাটের সরবরাহ ও কেনাবেচা বেড়েছে।
ভাটিয়াপাড়া বাজারের পাট ও ভূষিমাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নিয়ামূল হক শরীফ জানান, শুক্র ও সোমবার এ বাজারে হাট বসে। ভোর থেকে শুরু হওয়া কেনাবেচা সাধারণত সকাল ১০টার মধ্যে শেষ হয়। বাজারে ১২০টি পাটের আড়ত ও অন্তত ১০০টি গুদাম রয়েছে। বর্তমানে প্রতি হাটে ১ হাজার থেকে ২ হাজার মণ পাট কেনাবেচা হচ্ছে।
কাশিয়ানীর বরাশুর গ্রামের কৃষক মফিজুর রহমান শেখ এবার ১৮০ শতাংশ জমিতে পাটের আবাদ করে ৫২ মণ পাট উৎপাদন করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, এ বছর প্রচুর বৃষ্টি হওয়ায় পাট জাগ দিতে সমস্যা হয়নি। গত বছরের তুলনায় প্রতি মণে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা বেশি দাম পাওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট। ভালো দাম অব্যাহত থাকলে আগামী বছর পাটের আবাদ বাড়াবেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের গোপালগঞ্জ খামারবাড়ির উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ২৪ হাজার ৮৫৯ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০ হাজার ৯৬০ টন। বাস্তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮২৭ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে এবং ১ হাজার ৬৯৬ টন বেশি পাট উৎপাদিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মণ পাট বিক্রিতে কৃষকের ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে। বর্তমান দাম অব্যাহত থাকলে আগামী বছর জেলায় পাটের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন তিনি।
প্রতিনিধি/এসএস




