জেলা প্রতিনিধি
২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
পূজার ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। গত ১৪ অক্টোবর কাঞ্চনজঙ্ঘা স্পষ্ট দেখা গেলেও এরপর এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে দেখা মেলেনি হিমালয়ের এই পর্বতশৃঙ্গের। তবু দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশায় তেঁতুলিয়ায় ছুটে এসেছেন শত শত পর্যটক। তবে মেঘ ও কুয়াশার কারণে শৃঙ্গটি দেখতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেকে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকে তেঁতুলিয়ার ডাকবাংলো, মহানন্দা নদীর তীরসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের ভিড় দেখা যায়।
পর্যটকদের বড় একটি অংশের প্রধান আকর্ষণ ছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ পর্বতশৃঙ্গের ছবি ও প্রচারণা দেখে অনেকেই তেঁতুলিয়ায় এসেছেন। কিন্তু কয়েক দিন ধরে আকাশে মেঘ ও কুয়াশা থাকায় কাঙ্ক্ষিত দৃশ্যের দেখা মেলেনি।
পর্যটকদের অভিযোগ, কাঞ্চনজঙ্ঘা সব সময় দেখা যায় না। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় এমনভাবে প্রচার করা হয়, যেন তেঁতুলিয়ায় এলেই নিশ্চিতভাবে পর্বতশৃঙ্গটি দেখা যাবে। এতে দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা প্রত্যাশা নিয়ে এসে হতাশ হচ্ছেন।

গাজীপুর থেকে পরিবার নিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসেছিলেন মমতাজ উদ্দিন। কয়েক দিন অবস্থান করেও পর্বতশৃঙ্গটির দেখা না পেয়ে হতাশ তিনি।
নওগাঁ থেকে আসা দিল আকরামও তেঁতুলিয়ায় এসেছিলেন কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার আশায়। শৃঙ্গটির দেখা না পেলেও তিনি ঘুরে দেখেছেন সমতলের চা-বাগান, মহানন্দা নদী ও বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্টসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান।
তবে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে না পাওয়ার হতাশার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অব্যবস্থাপনা নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। ডাকবাংলো পিকনিক কর্নারে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম হলেও পর্যাপ্ত গণশৌচাগার নেই। একটি গণশৌচাগার থাকলেও সেখানে পানির ব্যবস্থা না থাকায় বোতলজাত পানি কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন পর্যটকেরা।
পর্যটক ফাইয়াজ বিনতে আফরোজ বলেন, এত বিপুল মানুষের সমাগম হলেও পর্যাপ্ত শৌচাগার ও পানির ব্যবস্থা নেই। পর্যটনকেন্দ্রটিকে আরও পরিকল্পিত ও পর্যটকবান্ধব করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, তেঁতুলিয়ার আকর্ষণ শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা নয়। এখানে রয়েছে সমতলের চা-বাগান, মহানন্দা নদী, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ও জিরো পয়েন্টসহ নানা দর্শনীয় স্থান। তাই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা না গেলেও তেঁতুলিয়ার পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে।

পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, তেঁতুলিয়াকে শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার গন্তব্য হিসেবে নয়, বরং চা-বাগান, নদী, সীমান্ত ও প্রকৃতির সমন্বয়ে একটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরা প্রয়োজন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার বিষয়ে বাস্তবসম্মত তথ্য প্রচার, পর্যটনকেন্দ্রে পর্যাপ্ত শৌচাগার ও পানির ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা, আবাসনভাড়ায় ন্যায্যতা এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, চলতি মাসের শেষ দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকতে পারে। তবে নভেম্বরের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আবারও পর্বতশৃঙ্গটির দেখা মিলতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রশাসনও উদ্যোগ নিয়েছে। তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসাইন জানান, দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে অবস্থান করতে পারেন, সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ডাকবাংলো এলাকায় একটি গণশৌচাগার যথেষ্ট নয়। জেলা পরিষদের অনুমোদন পাওয়া গেলে সেখানে দ্রুত একটি দৃষ্টিনন্দন গণশৌচাগার নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে।
কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যাবে কি না, তা নির্ভর করে আবহাওয়ার ওপর। তবে পর্যটকদের মানসম্মত সেবা, সঠিক তথ্য এবং তেঁতুলিয়ার অন্যান্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তুলে ধরার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই।
প্রতিনিধি/এসএস