Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

রংপুরে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ, বিজয়া দশমীর পরও হয়নি প্রতিমা বিসর্জন

জেলা প্রতিনিধি

২২ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১৯ পিএম

রংপুর নগরীতে জমির মালিকানা ও মন্দিরের দখল নিয়ে বিরোধের জেরে বিজয়া দশমীর সময় পেরিয়ে গেলেও দুর্গাপূজার প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়নি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সড়ক অবরোধ এবং পুলিশ প্রশাসনের গভীর রাত পর্যন্ত দফায় দফায় বৈঠক হলেও বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বিরোধের সমাধান হয়নি।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১টা পর্যন্ত মন্দিরে প্রতিমা রেখেছিলেন পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা। এ নিয়ে জমির মালিক ও পূজা উদযাপন কমিটির মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের পাশাপাশি সেখানে এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। রাতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও বৃহস্পতিবার সকালে পরিস্থিতি শান্ত ছিল।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সাল থেকে স্থানীয় দশরথের তিন শতক জমিতে মন্দির স্থাপন করে প্রতিবছর দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। চলতি বছর পূজা উদযাপন কমিটি দুর্গাপূজার পর কালী প্রতিমাসহ অন্য প্রতিমা স্থাপন করে সেখানে স্থায়ী মন্দির নির্মাণের প্রস্তুতি নেয়।

বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের সময় জমির মালিক দশরথ সব প্রতিমা সরিয়ে মন্দির খালি করার দাবি জানান। এ নিয়ে তার সঙ্গে পূজা উদযাপন কমিটির বিরোধ দেখা দেয়। পরে প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে স্থায়ী মন্দির স্থাপনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যসহ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি অংশ।

আরও পড়ুন

রংপুরে বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধ, বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর, আহত ৩

অন্যদিকে, নিজের জমি ফিরে পেতে মন্দির থেকে প্রতিমা সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে জমির মালিক দশরথ ও তার লোকজন সড়কের অপর পাশে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ প্রশাসন গভীর রাত পর্যন্ত দুই পক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে। তবে তাতে কোনো সমাধান আসেনি।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (তদন্ত) দায়িত্বে থাকা মিলন চ্যাটার্জি বৃহস্পতিবার বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে এখনো অচলাবস্থা রয়েছে। পূজা উদযাপন কমিটি প্রতিমা বিসর্জন দিতে চাইলেও মন্দির খালি করতে রাজি নয়। তারা মন্দিরের দখল ধরে রাখতে চায়। অন্যদিকে, জমির মালিকপক্ষের দাবি, মন্দির খালি করে সব প্রতিমা সরিয়ে নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ গভীর রাত পর্যন্ত দুই পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেছে। এখনো প্রতিমা বিসর্জন হয়নি। তবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিষয়টির সমাধান হবে বলে তারা আশাবাদী।

প্রতিনিধি/এসএস