Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

নরসিংদীতে নিখোঁজ ব্যক্তিরা ফিরছেন লাশ হয়ে, বাড়ছে উৎকণ্ঠা

জেলা প্রতিনিধি

২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২৮ এএম

ঘর থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হচ্ছেন কেউ। স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি করেও সন্ধান পাচ্ছেন না। কয়েক দিন পর নির্জন স্থান, নদী কিংবা জলাশয় থেকে উদ্ধার হচ্ছে তাদের মরদেহ। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় একের পর এক এমন ঘটনায় বাড়ছে মানুষের আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা।

কেন নিখোঁজ হওয়ার পর মরদেহ হয়ে ফিরছেন এসব মানুষ? এসব ঘটনার পেছনে কারা জড়িত? এমন নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে।

সাম্প্রতিক সময়ে রায়পুরায় বিভিন্ন বয়সী ও পেশার মানুষের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পুলিশ বলছে, কয়েকটি ঘটনায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালকদের হত্যার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় তদন্ত চলছে।

একের পর এক এমন ঘটনার দ্রুত তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।

চার দিনে শিশুর মরদেহ উদ্ধার

সর্বশেষ, গত ১৯ অক্টোবর রায়পুরার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভেলুয়ারচর এলাকায় একটি খালের পাড়ের ঝোপ ও কচুরিপানার ভেতর থেকে তারেক (১২) নামের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তারেক ওই এলাকার মালয়েশিয়াপ্রবাসী জিয়াউর রহমানের ছেলে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ১৫ অক্টোবর সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় তারেক। চার দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

সাত দিন পর মিলল অটোরিকশাচালকের মরদেহ

এর আগের দিন ১৮ অক্টোবর সকালে উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের হাসনাবাদ এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে আরমান ফকির (২৪) নামের এক অটোরিকশাচালকের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি রায়পুরার ভাটিবদরপুর এলাকার সালাহউদ্দিন ফকিরের ছেলে।

স্বজনেরা জানান, গত ১১ অক্টোবর অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন আরমান। এরপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। নিখোঁজের সাত দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নদে মিলল কিশোরের মরদেহ

গত ১৩ অক্টোবর উপজেলার মরজাল ইউনিয়নের আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে রহমত উল্লাহ (১৮) নামের এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি চর মরজাল গ্রামের পশ্চিমপাড়ার জামাল মিয়ার ছেলে। রহমত উল্লাহ মানসিক ও বাক্‌প্রতিবন্ধী ছিলেন। পরিবারের দাবি, নদীতে গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।

অটোরিকশা ছিনতাইয়ের জন্য হত্যা

এর আগে, গত ৫ অক্টোবর উপজেলার আদিয়াবাদ ইউনিয়নের বড়বিল এলাকা থেকে কচুরিপানার মধ্যে মনির হোসেন (১৭) নামের এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের শাহ আলম মিয়ার ছেলে।

জীবিকার তাগিদে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হন মনির। এ ঘটনায় পরিবারের করা মামলার তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নরসিংদী ঘোড়াশালের বাগপাড়া ও কুমিল্লার লালমাই থেকে দুজন আসামিকে গ্রেফতার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মনিরের অটোরিকশার চারটি ব্যাটারিও উদ্ধার করা হয়।

পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশেই মনিরকে হত্যা করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন

নরসিংদীতে চাচা ও চাচাতো ভাইয়ের বিরুদ্ধে ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

চার দিন পর উদ্ধার হয় শিশুর মরদেহ

গত ২৯ জুন রায়পুরার পাড়াতলী ইউনিয়নের মধ্যনগর এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় সাত বছর বয়সী শিশু তাসকিয়া। চার দিন পর বাড়ির পাশের একটি জমি থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয়রা

রায়পুরায় ধারাবাহিকভাবে এমন ঘটনা ঘটতে থাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।

রায়পুরা ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন বলেন, “রায়পুরায় একের পর এক নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এ ধরনের ঘটনা রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে এলাকাবাসীকেও সচেতন থাকতে হবে। সন্দেহজনক কিছু দেখলে পুলিশকে জানাতে হবে এবং কোনো গুজবে কান দেওয়া যাবে না। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান বলেন, থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হলে পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত শুরু করে। নিখোঁজ ব্যক্তি প্রাপ্তবয়স্ক হলে এবং মুঠোফোন ব্যবহার করলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি তার সঙ্গে চলাফেরা করা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদসহ বিভিন্নভাবে খোঁজ নেওয়া হয়।

ওসি আরও বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকেই অটোরিকশাচালক। বেশি ভাড়ার প্রলোভন দেখিয়ে চালকদের নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যা করে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে অটোরিকশাচালকদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদেরও সতর্ক থাকতে হবে।

প্রতিনিধি/এসএস